রোববার, ২৬ মে, ২০২৪, ঢাকা

ফ্রান্সের ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা

ফুয়াদ হাসান
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ফ্রান্সের ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা

আধুনিক ফুটবলার তৈরির কারখানা বলা হয় ফ্রান্সকে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে ফরাসি ফুটবলের চিত্র। যেখানে এর আগের দুই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি দলটি। সেই বদলের পালায় হাওয়া লাগিয়ে ২০০৬ সালে রানার্সআপ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে ফরাসিরা। এমবাপে, জিরুদদের এই পরিবর্তন এক দিনের নয়। দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল এটি। যে পরিবর্তনের হাত ধরে শেষ ৭টি বিশ্বকাপের ৪টিতেই ফাইনালে উঠে ফ্রান্স।

প্রতি বছরই বিশ্বমানের ফুটবলার তুলে আনাই থাকে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লক্ষ্য। সারা বছর জুড়ে ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা ঘোরেন দেশের আনাচে-কানাচে। কোনো ফুটবল প্রতিযোগিতার কথা শুনলেই নতুন প্রতিভার খোঁজে তারা চলে যান সেখানে। কেউ তাদের নজরে আসলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফুটবল স্কুলে। এভাবেই প্যারিসের উত্তর শহরতলির একটি উদ্বাস্তু শিবির থেকে খুঁজে আনা হয়েছিল কিলিয়েন এমবাপে, পল পগবাকে।


বিজ্ঞাপন


এমবাপে যে উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করত, তার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস করত চরম দারিদ্র্যসীমার নীচে। সাধারণত উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে অপরাধ প্রবণতার হার বেশি। যার সুযোগ নেন ফরাসি ফুটবল কর্তারা। দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা সহজেই অনুমতি দেন সন্তানদের ফুটবল স্কুলে পাঠানোর জন্য। এর সঙ্গে ফুটবল থেকে আয় রোজগারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসে শিশুরা।

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপ জিতেও বিতর্কে মেসি-ডি মারিয়ারা

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা শুধু যে প্রতিভা খুঁজে বের করেই ক্ষান্ত থাকেন, তা নয়। তাদের প্রতিপালনের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে তারা। এর জন্য প্যারিসের উপকণ্ঠে তৈরি করা হয়েছে ১৪টি ফুটবল স্কুল। রয়েছে ১০০টির মতো ক্লাব। স্কুল জীবন শেষ হওয়ার পর ক্লাবের জন্য চিন্তা করতে হয়না তাদের। স্কুলগুলো থেকেই পছন্দের ফুটবলারদের বেছে নিতে থাকে ক্লাবগুলো। এই পরিকল্পনার জন্যই ফ্রান্সের উদ্বাস্তু শিবিরের অভিভাবকরা পড়াশোনার থেকে ফুটবলকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে খেলার মাঠে পাঠান তারা।


বিজ্ঞাপন


এমবাপে, পগবারা ফরাসিদের এই প্রকল্পের উদাহরণ মাত্র। এভাবেই প্রতি বছর ডজন খানেক ফুটবলার তুলে আনেন ফ্রান্স ফুটবলের কর্তারা। প্যারিসের শহরতলির বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা প্রায় ৬০ জন ফুটবলার উঠে এসেছেন।

আরও পড়ুন- শিরোপা জিতে কত টাকা পেল আর্জেন্টিনা

তবে সবার সঙ্গে এমবাপেকে এক করে দেখতে নারাজ ফ্রান্সের ফুটবল কর্তারা। তাদের মতে, এমবাপে অসাধারণ এক প্রতিভার নাম। এক প্রজন্মে এমন ফুটবলার একজনই হয়।

তৃনমূল থেকে উঠে আসা ফুটবলাররা শুধু যে ফ্রান্সের ফুটবলকেই বদলে দিয়েছেন, তা নয়। বদলে দিয়েছেন উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর অর্থনীতিকেও। ফুটবলাররা তাদের আয়ের বিপুল অর্থ এলাকার উন্নতির জন্য দান করেন। তাছাড়াও আর্থিকভাবে সাহায্য করেন বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের। তাদের অর্থায়নেই উন্নতির ছোঁয়া আসে ফুটবল কারখানার পরিকাঠামোতে।

এফএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর