আর্জেন্টিনার সামনে এবার উজ্জীবিত অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২১ পিএম
আর্জেন্টিনার সামনে এবার উজ্জীবিত অস্ট্রেলিয়া

অঘটনের কাতারে আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই। যে লড়াইয়ে পরাজিত হলে পেতে হবে আসর থেকে বিদায়ের তিক্ত স্বাদ। এমন সমীকরণের যুদ্ধে প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ ‘ডি’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে আসা অস্ট্রেলিয়া। কাতারের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে কাতারে পা রাখে আর্জেন্টিনা। তবে আসরের প্রথম ম্যাচেই এশিয়ার পরাশক্তি সৌদি আরবের কাছে হেরে অঘটনের জন্ম দেয় আলবেসেলিস্তারা। সেই ম্যাচ হারে শঙ্কা জাগে বিশ্বকাপে টিকে থাকার। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে গ্রুপ পর্বের পরের দুই ম্যাচ জিতে আসরে দারুণভাবে ফিরে আসে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। আর এতেই সৌদির কাছে হারের পর ফিকে হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা আবারও নতুন করে জাগে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপে এশিয়ার গর্ব জাপান-দ.কোরিয়া

তবে বিশ্বকাপ জয়ের সেই পথে আলবেসেলিস্তাদের সামনে বড় বাধা সকারুজরা। কেননা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, আসরের ডাকহর্স খ্যাত দল ডেনমার্ক ও আফ্রিকান পরাশক্তি তিউনিশিয়ার সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা দলটি ডেনমার্ক-তিউনিশিয়াকে কাঁদিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
তাই শেষ ষোলোর আজকের ম্যাচে বেশ আশবাদী অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের আগে তাই অজি কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ান যুব দলের কোচ ছিলেন গ্রাহাম। সেবার আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল গ্রাহামের দল। সেই স্মৃতি সামনে টেনে এনে সকারুজ কোচ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জিততে যাচ্ছি। আমি গত বছর টোকিওতে অলিম্পিক দলের কোচ ছিলাম। আমরা আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিলাম। এটি একটি হালকা নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সির বিপক্ষে একটি হলুদ জার্সির লড়াই, যেখানে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই। আমরা সেবার শুধু দেশকে দেখাইনি, আমরা বিশ্বকে দেখিয়েছি, তা হলো আমরা একটি দল এবং একটি গোষ্ঠী হিসাবে একতাবদ্ধ’।

আরও পড়ুন- শেষ ষোলোতে কে কার প্রতিপক্ষ

এর আগে এই দুই দলের মুখোমুখি ৭ বারের দেখায় আর্জেন্টিনার জয় ৫টিতে। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে একটি ম্যাচে। ২০০৭ সালে সবশেষ দেখায় ১-০ গোলে জিতেছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। তবে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৮৮ সালের সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছিল সকারুজরা।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় জয় ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত ৭ বারের দেখায় আলবেসেলিস্তাদের ১৫ গোলের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার  গোল ৭টি। তাছাড়াও দুই দলের র‌্যাঙ্কিংয়েও আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মেসিদের অবস্থান তিন নম্বরে, অন্যদিকে অজিরা আছে ৩৮ নম্বরে।

তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের পরিসংখ্যান দেখে সকারুজদের মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না মেসি-ডি মারিয়াদের কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তাই দলকে দিলেন সতর্কবার্তা। স্ক্যালোনি বলেন, ‘যদি আপনি ভাবেন অস্ট্রেলিয়া সহজ হবে, তাহলে ভুল। কারণ এই বিশ্বকাপে কঠিন দলগুলোর বাধা অতিক্রম করেছে তারা’।

২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে শেষবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর কেটে গেছে ১৬ বছর। নতুন করে প্রত্যাবর্তনের দলটি এবার ইঙ্গিত দিচ্ছে মেসিদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার। যেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে চায় ব্রাজিলকে। এই প্রসঙ্গে কোচ আর্নল্ড বলেন, ‘আমরা সেরাদের (ব্রাজিল) বিপক্ষে খেলতে চাই। বিশ্বকাপে ৩২ দল খেলে, এখন আমরা শেষ ষোলোয়। সেরাদের বিপক্ষে খেলে আমরা নিজেদের পরীক্ষা করতে চাই এবং বাকি বিশ্বকে দেখাতে চাই আমাদের কী করতে পারি’।

তবে এবারের আসরে ফেভারিট হয়েই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের পা রেখেছে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। আসরে দলটিতে মেসি-ডি মারিয়াদের ছাড়াও দেখা যাচ্ছে তারুণ্যের জয়গান। মেক্সিকোর বিপক্ষে এনজো ফার্নান্দেজের চোখ জুড়ানো গোল কিংবা পোল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে দুই তরুণ ম্যাক অ্যালিস্টার ও আলভারেজের গোল জানান দিচ্ছে সামনের দিনগুলোতে আলবেসেলিস্তারা পেতে যাচ্ছে মেসি-ডি মারিয়াদের যোগ্য উত্তরসূরীর।

এফএইচ

টাইমলাইন