রোববার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

আর্জেন্টিনার পর জার্মানি, এরপর কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

আর্জেন্টিনার পর জার্মানি, এরপর কে?

সৌদি আরবের পর কাতার বিশ্বকাপে আরও একটি অঘটনের জন্ম দিয়েছে জাপান। তবে কি অঘটনের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এটি? আর্জেন্টিনার পর জার্মানি, অর্থাৎ পরপর দুই দিন দুই পরাশক্তি এবং সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ধরাশায়ী হতে হয়েছে মরুর দেশে। এবার কার সঙ্গে ঘটতে পারে অঘটন?

এদিকে বুধবার রাত ১০টায় স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে কোস্টারিকা। ১টায় বেলজিয়ামের ‍মুখোমুখি হবে কানাডা। এছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ক্যামেরুন। সন্ধ্যা ৭টায় উরুগুয়ের সঙ্গে মাঠে নামবে দক্ষিণ কোরিয়া। রাত ১০টায় পর্তুগালের মুখোমুখি হবে গানা। এছাড়া একই দিন রাত ১টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে সার্বিয়া। 


বিজ্ঞাপন


স্পেন-কোস্টারিকা

১৭ বার বিশ্বকাপ খেলা স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১০ সালে। এনিয়ে তীতৃয়বার বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখছে কোস্টারিকা। তবে কোনো বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। 

বেলজিয়াম-কানাডা

অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল বেলজিয়াম। তবে এবার ভালো কিছু করতে মুখিয়ে রয়েছে ইডেন হ্যাজার্ডের। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কানাডা। তুলনামূলক দুর্বল তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। তবে কাগজে কলমে তারকাখচিত রেড ডেভিলদের চমকে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম কানাডার।


বিজ্ঞাপন


সুইজারল্যান্ড-ক্যামেরুন
বিশ্বকাপে দুই দলেরই সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা। ১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ আসরে সেরা আটে খেলেছে সুইসরা। অপর দিকে ক্যামেরুন কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে ১৯৯০ সালের আসরে।

সবশেষ পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্র করেছে ক্যামেরুন। হেরেছে বাকি তিন ম্যাচ। সুইজারল্যান্ড তাদের আগের পাঁচ ম্যাচে জিতেছে তিনটি, হার দুই ম্যাচে।

উরুগুয়ে-দক্ষিণ কোরিয়া
কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে ১৪ বার বিশ্ব আসরে খেলছে উরুগুয়ে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি ১১তম বিশ্বকাপ এবং টানা দশমবার। বিশ্বকাপের সবশেষ তিন আসরেই নকআউটে উরুগুয়েকে দেখা গেলেও সব শেষ দুই আসরেই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। নিজ দেশে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনো সেরা সাফল্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিপরীতে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।

পর্তুগাল-গানা
আইকনিক ফুটবল জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও পর্তুগাল ১৯৬৬ ও ২০০৬ সালে শুধু দুইবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। গত পাঁচ আসরের মধ্যে চারটিতেই শেষ ১৬’র পর আর যেতে পারেনি। চার বছর আগে এবারের গ্রুপের আরেক দল উরুগুয়ের কাছে হেরে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগীজরা। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের শেষ ১১টি ম্যাচের মাত্র তিনটিতে জয়ী হয়েছে। সেই তুলনায় গানা কিছুটা দুর্বল প্রতিপক্ষ পর্তুগালের জন্য।

ব্রাজিল-সার্বিয়া
এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। কাতার বিশ্বকাপে শীর্ষ ফেভারিট দলগুলোর অন্যতম তারা। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে শুরু করে প্রতিবারই খেলেছে ব্রাজিল। ২০০২ সালের পর বিশ্ব সেরার মঞ্চে আর ফাইনালে যেতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দেশটি। বাছাইয়ে অপরাজিত থেকে কাতার বিশ্বকাপের টিকেট পায় ব্রাজিল। সবচেয়ে বেশি গোল করেন তারকা ফরোয়ার্ড (৮ গোল)। অন্যদিকে, সার্বিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার আলেকসান্দার মিত্রোভিচ (৫০ গোল) এবারের বিশ্বকাপের বাছাইয়ে জালের দেখা পান ৮ বার। চোটের কারণে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার খেলা নিশ্চিত নয়।

২০১৮ বিশ্বকাপেও মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও সার্বিয়া। ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জেতে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ছাড়া আর একবারই একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছে এই দুই দল। ২০১৪ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।

এর আগে ফুটবল বিশ্বকাপে জার্মানির কখনো মুখোমুখি হতে হয়নি জাপানকে। ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়েও হার এড়াতে পারল না থমাস মুলারের দল।

অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার জন্ম দেয় জার্মানরা। দলীয় ছবি তোলার সময় প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিল তারা। যদিও বিশ্বকাপের আগে থেকেই কাতারের সাংস্কৃতিক উদারতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পশ্চিমারা। আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে সমকামী-বিরোধী আইন করায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এলজিবিটি কমিউনিটি। 

ওই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ওয়েলস। সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসব দলের অধিনায়করা ‘ওয়ান লাভ’ নামে বিশেষ এক ধরণের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন। কিন্তু পর্যন্ত ফিফার আপত্তি ও শাস্তির হুমকিতে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে তাদের। 

তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি জার্মানি। সেটা বোঝাতেই দলীয় ছবি তোলার সময় মুখে হাত দিয়ে রেখেছিলেন জার্মান খেলোয়াড়রা। যার মানে হচ্ছে, তাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, প্রতিবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দেখার বিষয় আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কীভাবে নিচ্ছে প্রতীকী প্রতিবাদের বিষয়টি। 

এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর