শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ছাগলে জমজমাট পাবনার পশুর হাট

শামসুল আলম
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২২, ০১:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

ছাগলে জমজমাট পাবনার পশুর হাট
ছবি: ঢাকা মেইল

আর মাত্র কয়েক দিন বাকি পবিত্র ঈদুল আজহার। কিন্তু পাবনার হাটগুলোতে কোরবানির পশুর ব্যাপারী ও সাধারণ ক্রেতাদের তেমন দেখা মিলছে না। ফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন খামারি ও সাধারণ পশু পালনকারীরা। তবে তুলনামূলকভাবে ছাগলের হাটগুলো কেনাবেচায় বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। গরুর হাটে যেখানে ফাঁকা সেখানে ছাগলের হাটে পা ফেলানোর জায়গা নেই। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। সাধারণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনে ছোট ছোট পিকআপ আর ট্রাকে ভর্তি করছেন তারা। রয়েছে স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারাও।

পাবনা জেলা ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাট, ঈশ্বরদীর অরণখোলা হাট, সাঁথিয়ার করমজা হাট, ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা ও বেড়ার চতুর হাটসহ বেশ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (১ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবনা শহরতলীর হাজিরহাট ঘুরে দেখা যায়, গরুর হাটে হাজার হাজার পশু নিয়ে বিক্রেতারা অপেক্ষা করছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। মাঝেমধ্যে দুই একজন ক্রেতা গরু নাড়াচাড়া করেই চলে যাচ্ছেন। দরদাম করতেও তাদের তেমন আগ্রহ নেই। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।
PABNA HATগ্রাম থেকে কিনে ১০টা গরু নিয়ে আসছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল কালাম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রতিবছর ঈদের এই সময়টা গরুর হাট জমজমাট থাকে।‌ বিশেষ করে ঢাকার ব্যবসায়ীরা এখানে গরু কিনতে আসেন, কিন্তু এবার তাদের তেমন দেখা মিলছে না। বিকেল‌ ৪টা বাজে এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। ‌টাকা বাকি রেখেই কৃষকের গরু নিয়ে হাটে আসছি, বিক্রি করতে না পারলে পথে বসে যাব।

ময়েজ উদ্দিন নামের এক কৃষক দুইটা গরু নিয়ে আসছেন। আগেরদিন পুষ্পপাড়া হাটে বিক্রি করতে না পারায় শুক্রবার নিয়ে আসছেন হাজিরহাটে। এখানেও দেখা পাচ্ছেন না ক্রেতার। ‌ হতাশা প্রকাশ করে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, মাঝে মধ্যে দু-একজন ক্রেতা আসছেন, কিন্তু গরুর নাড়াচাড়া করে দাম না বলেই চলে যাচ্ছেন। আবার এক-দুজন দামও বলছেন। কিন্তু কেউ সঠিক দাম বলছেন না। গো-খাদ্যের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার গরু পালন করতে গত বছরের তুলনায় বেশ খরচ হয়েছে। চাহিদা মতো দামে বিক্রি করতে না পারলে আগামীতে গরু পালন করতে পারব কিনা সেটাই ভাবছি।
goat pabnaগরুর হাটে যখন এরকম হতাশার ছাপ ঠিক পাশেই ছাগলের হাটে চলছে বিক্রেতাদের উচ্ছ্বাস। সেখানে তিল ধারনের ঠাঁই নাই। নির্ধারিত স্থান ছাপিয়ে পাশের সড়কগুলোতেও চলছে বেচাকেনা।‌ তবে দাম নিয়ে হতাশ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা আর বিক্রেতারা বলছেন- দাম বেশি নয় ছাগলের খাদ্যের দামের তুলনায় বরং অনেক কম।

ছাগল বিক্রেতা আব্দুর রউফ ঢাকা মেইলকে বলেন, বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। কিন্তু দাম তুলনামূলক কম। কারণ ছাগলের খাদ্যের যেপরিমাণ দামে তাতে ছাগলের পালন করে তেমন লাভ হচ্ছে না।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণ মোহন হালদার ঢাকা মেইলকে বলেন, পাবনায় খামারি রয়েছে ২৩ হাজার ৫৯০ জন। এসব খামারি ও সাধারণ কৃষকের পালনে এবার পাবনায় মোট কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার আর ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুর রয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার। গতবার জেলায় কোরবানির চাহিদা ছিল আড়াই লাখ, এবার চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ। বাকি পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাবে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/এএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর