মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কোরবানি কি ২-৪-৬ ভাগে করা যায়?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরবানি কি ২-৪-৬ ভাগে করা যায়?

ঈদুল আজহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল কোরবানি। অনেকেই খরচ ভাগ করে নিতে একটি গরু বা মহিষে একাধিক শরিক হয়ে কোরবানি দেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে- সাত ভাগ ছাড়া দুই, চার বা ছয় ভাগে কোরবানি করা কি জায়েজ? ইসলামি শরিয়তে এর সুস্পষ্ট উত্তর রয়েছে। তবে শরিকে কোরবানির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা না থাকলে কোরবানি শুদ্ধ নাও হতে পারে।

কোরবানি ইসলামের একটি মহান নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২) এতে রয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের শিক্ষা এবং আল্লাহর ভালোবাসায় সব চাহিদা ত্যাগ করার অনুপ্রেরণা।

আরও পড়ুন: কোরবানির পশু চুরি বা মরে গেলে করণীয়

কত ভাগে কোরবানি করা যায়?

উট, গরু ও মহিষ সর্বোচ্চ সাত ভাগে কোরবানি করা যায়। তবে সাতের কমে যেকোনো সংখ্যায়- দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগেও কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)
এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট দলিল রয়েছে। সাহাবি জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমরা হুদায়বিয়ার সনে উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং গরুও সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছিলাম।’ (সহিহ মুসলিম: ২৩২২; আবু দাউদ: ২৮০৯; তিরমিজি: ১৪২২; ইবনে মাজাহ: ৩১৩২)

যেসব বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে

শরিকে কোরবানির ক্ষেত্রে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ সমান হওয়া আবশ্যক। কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ- এভাবে অসম হলে কোনো শরিকেরই কোরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)
এ ছাড়া হারাম উপার্জনকারী কাউকে শরিক করা যাবে না। কেননা একজনের হারাম অর্থ পুরো কোরবানিকে অশুদ্ধ করে দেয়- অন্য শরিকদের কোরবানিও তখন আর শুদ্ধ থাকে না। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি হালাল ও পবিত্র ব্যতীত কোনোকিছু গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ২২১৫)

আরও পড়ুন: কোরবানির গোশত বিতরণের সঠিক নিয়ম

আগে থেকে নিয়ত করা জরুরি

কেউ যদি গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানির নিয়তে কিনে থাকেন, পরে চাইলে তাতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ। তবে ধনী হলে একা কোরবানি করাই শ্রেয়; শরিক করলে সেই টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম।
যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি কোরবানির নিয়তে পশু কিনলে সেই পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। যদি করেন, তাহলে শরিকের টাকা সদকা করে দেওয়া জরুরি হবে। তাই শরিক নিতে চাইলে পশু কেনার সময়ই নিয়ত করে নেওয়া উচিত। (ফতোয়া কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১; বাদায়িউস সানায়ে: ৪/২১০)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সামর্থ্যবানদের বিশুদ্ধ নিয়ত ও হালাল উপার্জন দিয়ে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর