শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘বড় গরু কিনবার চাচ্ছে না গো, হস্তা দাম কয়’

নাঈম ইসলাম
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২২, ০৫:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বড় গরু কিনবার চাচ্ছে না গো, হস্তা দাম কয়’
ছবি: ঢাকা মেইল

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী নওহাটা পৌর গরুর হাট। ব্যাপারী আকমল মিয়া দু’টি বড় গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। প্রতিটির মাংস হবে ২০ মণের ওপরে। দাম হেঁকেছেন ৫ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা আশানুরূপ দাম না বলায় সেগুলো বিক্রি করেননি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন আকমল ব্যাপারী। 

শনিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘বড় গরু কিনবার চাচ্ছে না গো, হস্তা দাম কয় (বড় গরু কেউ নিচ্ছে না। যা দাম বলছেন তা বলার মতো নয়)।


বিজ্ঞাপন


শেরপুরের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় গরুর দাম হঠাৎ করেই নেমে গেছে। ছোট ও মাঝারি গরু তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হলেও বড় গরুর দাম ততটা বলছেন না ক্রেতারা।

‘ইউটিউবার’ নামের এক ৩৫ মণের বিশালাকৃতির ষাঁড় নিয়ে চিন্তায় আছেন তরুণ উদ্যোক্তা সুমন। ইউটিউবারের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। তবে কোনো ক্রেতা এখনও আশানুরূপ দাম বলেননি।

দুপুর থেকেই পশু বেচাকেনা শুরু হয় শেরপুরের বিভিন্ন গরুর হাটে। পবিত্র কোরবানি ঈদ উপলক্ষে শেরপুর জেলার মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে। হাটগুলোয় অন্তত ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।
cowতবে অনেক ক্রেতা বলছেন, বিগত সময়ের তুলনায় এবার গরু-মহিষের দাম কিছুটা বেশি। তবে বিক্রেতাদের দাবি, গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশু পালনে খরচ বেড়েছে। ফলে হাটে যে দাম উঠছে পশুর, তাতে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। 

শ্র‍ীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের কাজিরচর গ্রামের পোস্ট মাস্টার আবু বক্কর হাটে গরু কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, হাটে আসছি গরু কিনতে। কিন্তু এসে দেখি গরুর দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি আর পাইকারও বেশি। প্রতি গরুতেই অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।


বিজ্ঞাপন


সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনী মুড়া নামাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলগীর আল আমিন। তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি গরু খুঁজছি। বড় গরু তো আর কিনন যাবো না। বাজেট যেহেতু কম।

আরেক বিক্রেতা মনির মিয়া বলেন, আমি তো ছোট দেইকা এডা গরু আনছিলাম বেইচা হারছি। দেখলাম ছোট গরু তারাতাড়ি বেচা হইতাছে।

সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগিনীবাগ গ্রামের রুবেল মিয়া জানান, এবার গরুর খাবারের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ বেশি হয়েছে। তবে লোকসান হলেও গরু বিক্রি করতে হবে- কারণ খরচ দিয়ে আর গরু গোয়ালে রাখা সম্ভব না।
cowকুড়িকাহনিয়া থেকে এসেছেন শামিদুল হক। তিনি বলেন, আমি দুইডা ছোট গরু আর একটা বড় গরু আনছিলাম। ছোট গুলা বেইচ্চা দিছি। হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বালাই।

শেরপুর জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ৫৫ হাজার ৪৬৫টি। বিপরীতে জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা রয়েছে ৮৪ হাজার ৪১৭টি। এবার জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পশু বেচা-কেনা হবে বলে ধারণা করছি আমরা। এতে খামারীরা বেশ লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ২৭টি কোরবানির হাট ও ৬টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগে পুরো জেলায় ২৩টি ভেটেনারি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর