রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

ঝালকাঠিতে পরিত্যক্ত ঘরে থাকেন নারী কনস্টেবলরা

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ঝালকাঠিতে পরিত্যক্ত ঘরে থাকেন নারী কনস্টেবলরা
পরিত্যক্ত কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন নারী কনস্টেবলরা

ঝালকাঠিতে উন্নত থানা ভবন থাকলেও পুলিশের জন্য নেই থাকার কোয়ার্টার। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) থাকেন ভাড়া বাসায়। আর ব্রিটিশ সরকারের বানানো পরিত্যক্ত কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন নারী কনস্টেবলরা।

জেলা ঘোষণার ৪০ বছরেও নির্মিত হয়নি পুলিশের ব্যারাক এবং ওসিদের বাসস্থান। ১৯৮৪ সালে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, নলছিটি ও সদর এ চারটি থানা নিয়ে ঝালকাঠিকে মহকুমা থেকে জেলা ঘোষণা করা হয়। 


বিজ্ঞাপন


থানা কম্পাউন্ডে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত সেমিপাকা ছোট ছোট ঘর রয়েছে, যা  অনেক বছর আগেই বসবাসের অনুপযোগী। কর্তৃপক্ষ এসব ঘর পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। নানা প্রতিকূলতা নিয়ে ওই পরিত্যক্ত ঘরেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন নারী কনস্টেবলরা। বড় পদের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও ছোট পদের পুলিশ সদস্যরা সামর্থ্যের দিক বিবেচনা করে পরিত্যক্ত ঘরেই বাস করেন।


সম্প্রতি সদর থানা কম্পাউন্ডে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক পুলিশ বাহিনীর নারী সদস্যরা পুরোনো ও জরাজীর্ণ সেমিপাকা ঘরগুলো নিজেদের খরচে মেরামত করে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ঘরের আশপাশ। ব্যারাক না থাকার কারণে পরিত্যক্ত ঘরে সাপ, পোকা-মাকড়ের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার নিয়ে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের এই অবস্থা চললেও সরকারিভাবে কোয়ার্টার নির্মাণে নেই কোনো উদ্যোগ। এ কারণে থানা পুলিশের সদস্যদের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। থানার ওসিরা থানা কম্পাউন্ডে রাতযাপন করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ঝালকাঠির কোনো থানায় ওসির আবাসিক কোয়ার্টার না থাকায় তারাও থাকেন ভাড়া বাসায়।


পুলিশের পরিপাটি পোশাক, সাজসজ্জা আর দাপুটে চলাফেরা অনেককেই পুলিশ হতে আগ্রহী করে তোলে। তবে ঝালকাঠির চারটি থানার পুলিশ সদস্যদের ভোগান্তি দেখলে অনেকেই এ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসা পুলিশ সদস্যরাই এখানে আছেন অনিরাপদে।


বিজ্ঞাপন


সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, থানা কম্পাউন্ডে কোয়ার্টার না থাকায় পুলিশ সদস্যরা খুব কষ্টে সেমিপাকা ঘরগুলোতে অবস্থান করছেন। আমি নিজেও ভাড়া বাসায় থাকি।

কাঁঠালিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ আলী বলেন, থানায় ওসির বাসভবন না থাকায় তিনি এখানে পরিবার আনতে পারেননি। থানা ভবনের ওপরতলায় একটি কক্ষ নিয়ে কোনো রকম রাতযাপন করেন।

জেলার রাজাপুর এবং নলছিটি থানার ওসিরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এ দুই থানায় আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় নারী কনস্টেবলদের খুব বেশি কষ্ট করতে হয়।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক বলেন, ঝালকাঠির সদর এবং কাঁঠালিয়ায় পুলিশের আবাসন সমস্যা অন্য থানার চেয়ে বেশি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করছেন, শিগগিরই ঝালকাঠির সব থানা কম্পাউন্ডে থাকা পুরোনো কক্ষগুলো অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করবে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিনিধি/এইচই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর