রোববার, ২৩ জুন, ২০২৪, ঢাকা

উচ্ছ্বসিত কর্মীরা, অপেক্ষায় যাত্রীরা

পিয়াস সরকার
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

উচ্ছ্বসিত কর্মীরা, অপেক্ষায় যাত্রীরা

মেট্রোরেলের জন্য আর মাত্র কয়েকদিন অপেক্ষা। আগামী ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা।

মেট্রোরেল রাজধানীর আগারগাঁও স্টেশন। সরেজমিন দেখা যায়, স্টেশনের নিচের অংশে কাজ করছেন ২০-৩০ জন কর্মী। ময়লা পরিষ্কার, ফুটপাতের ভাঙা অংশ ঠিক করা ও রঙের কাজ করছেন তারা।


বিজ্ঞাপন


মেট্রোরেলের উদ্বোধন ঘিরে সাধারণ মানুষের যেমন আগ্রহ তেমনি দারুণ উচ্ছ্বসিত এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও।

আহমেদ উল্লাহ নামে এক কর্মী উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, একবছর হলো এই স্টেশনের কাজ করতেছি। উপরের কাজ প্রায় শেষ, নিচের কাজও শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে নিজের বাড়ির কাজ করতেছি। এই ট্রেন চলবে, আমি গর্ব করে সারাজীবন বলব, এই মেট্রোরেলের কাজ আমি করছি।

ফুটপাতের ভাঙা টাইলস ঠিক করছিলেন আলমগীর নামে আরেক কর্মী। কাজ করতে করতেই তিনি বলেন, আমি আগেও ট্রেনে কাজ করছি। তবে মেট্রোরেলের কাজ করাটা আমার জন্য আনন্দের। কিছুটা আবেগের স্বরে তিনি বলেন, টেস্ট ড্রাইভের সময় আমাদের অনেকেই চড়ছে। আমার সৌভাগ্য হয় নাই। ইচ্ছা আছে টিকিট কাইটা একটা চক্কর দিয়া আসমু।

মেট্রোরেল নিয়ে সাধারণ মানুষেরও আগ্রহের শেষ নেই। আগারগাঁও ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের মাঝামাঝি অংশে দেখা যায় বেশকিছু শিক্ষার্থী ছবি তুলছেন।


বিজ্ঞাপন


সিরাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাড়ি মিরপুর-১১ নম্বরে। এই মেট্রোরেলের জন্য যা কষ্ট হয়েছে বলে বোঝানো যাবে না। কতদিন যে হেটে গেছি, কত যে ধুলা খাইছি, আর শব্দ তো আছেই। এখন অপেক্ষা ট্রেনের শব্দ শোনার।

বেগম রোকেয়া সরণিতে চায়ের দোকানে মেট্রোরেলের বেশ কয়েকজন কর্মী চা পান করছিলেন। তাদের কাছে আগ্রহ ভরে মেট্রোরেল নিয়ে নানা প্রশ্ন করছিলেন দোকানদার বিউটি বেগম।

এই প্রতিবেদককে বিউটি বেগম বলেন, ভালোই লাগতেছে। এত বড় উঁচা ব্রিজের ওপর ট্রেন চলব। আমি রাস্তার পাশেই দোকান করি, এখনো দেখি নাই। ট্রেন চালু হইলে ইচ্ছা আছে উঠনের। তয়, বাসের মতোন ভাড়া নাকি দেওন যায় না। আমি মূর্খ মানুষ, মেশিনে কেমনে ভাড়া দিমু, সেই চিন্তা করতাছি।

আগারগাঁও স্টেশনের চারপাশটা কিছুটা ফাঁকা। কিন্তু শেওড়াপাড়া স্টেশনের চারপাশে বিল্ডিং, মার্কেট। এই স্টেশনের সিড়ি নেমেছে রাস্তার পাশের চলাচলের ফুটপাতে। পাশেই রয়েছে কাঁচাবাজার। বাজারের মুখে জিলাপি ভাজছিলেন মো. আজিজ। তিনি বলেন, স্টেশনের পাশে আমার হোটেল। ভালোই লাগতেছে। লোকজন আসবে, খাবে। মেট্রোরেলের কারণে অনেকদিন ভালো ব্যবসা হয় নাই। ধুলার জন্য হোটেলের ওপর তেরপল (ত্রিপল) দিয়ে রাখা লাগছে। হোটেল যদি নাই দেখে তাহলে লোকজন আসবে কিভাবে? এখন দেখি চালু হোক। স্টেশনের পাশে দোকান যেহেতু আশা করি আল্লাহ মুখ তুলে চাইবে।

কাপড় ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, মেট্রোরেল হইল, খুশি তো লাগতেছেই। তবে ভাড়া কমানো দরকার। এত টাকা দিয়ে কিভাবে চড়ব? আর ট্রেনে মালামাল পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হতো।

শেওড়াপাড়া স্টেশনে সিঁড়িতে রেলিং ঝালাই করছিলেন মকসুদ রহমান। তার দিকে ক্যামেরা ধরতেই ভি চিহ্ন দেখান। ওপর থেকেই বললেন, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতায় যতটা খুশি হইছি। তার থেকেও বেশি খুশি মেট্রোরেল চালু হচ্ছে এজন্য।

স্টেশনের পাশেই চাদর বিছিয়ে মাস্ক, ব্রাশ, টুথপিক ইত্যাদি বিক্রি করছিলেন শিহাব। তিনি বলেন, আমার মেয়ে আগেই বলে রাখছে আকাশ ট্রেনে চড়বে। টিভিতে দেখছে মেট্রোরেল চালু হচ্ছে। মেয়ে বলে, আব্বা আকাশ ট্রেনে চড়ানোই লাগবে।

মেট্রোরেল স্টেশন এলাকার দুপাশ দিয়ে দুটি রাস্তা গেছে। পশ্চিম দিকের কিছুটা পথ এগিয়ে দেখা যায় ইন্টারনেট লাইনের কাজ করছেন দুজন। তাদের একজন আকাশ। তিনি বলেন, এই এলাকাতেই আমাদের ব্যবসা। এখানেই বাড়ি। নিজেদের ভাগ্যবান মনে হচ্ছে, বাড়ি থেকে বের হলেই রাস্তা। আবার স্টেশন। যোগাযোগ ব্যবস্থাটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হলো।

আবার এই স্টেশন থেকে মিরপুর ৬০ ফিট পর্যন্ত লেগুনা চলাচলের রাস্তা রয়েছে। একজন লেগুনা চালক বলেন, এখন এই রোডে ১২টা লেগুনা চলে। শুনতেছি মেট্রোরেল চালু হইলে আরও ৫টা লেগুনা চলব। এখন তো ডাইকা ডাইকা লেগুনায় যাত্রী উডান লাগে। আশা করি ট্রেন হইলে মানুষ আর ডাকা লাগব না। যাত্রীও বাড়ব।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সাধারণ যাত্রীরা মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন পরদিন থেকে।

পিএস/জিএম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর