সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

হাজারো শ্রমিক-প্রকৌশলীর হাড়ভাঙা শ্রমে মেট্রোরেল যুগে দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৪৮ এএম

শেয়ার করুন:

হাজারো শ্রমিক-প্রকৌশলীর হাড়ভাঙা শ্রমে মেট্রোরেল যুগে দেশ

দীর্ঘ ছয়বছর ধরে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ এগিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক তার সফল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ। যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে স্বপ্নের মেট্রোরেল। আপাতত উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে যা চলবে আগারগাঁও পর্যন্ত। পরবর্তীতে চলবে মতিঝিল পর্যন্ত।

২০০৯ সালে যখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার মেট্রোরেলের যুগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন ছয়টি রুটের প্রস্তাব করা হয়, যেগুলো হলো এমআরটি লাইন ১, ২, ৪, ৫ (নর্দান ও সাউদার্ন) ও ৬। তবে এর মধ্যে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় প্রথমে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার থেকে এতে চড়তে পারবেন সাধারণ যাত্রীরা। 

যেভাবে মেট্রোরেল প্রকল্প শুরু 
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ‘ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা ‘মেট্রোরেল’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়।

বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্পে শুরুতে অবশ্য ছয়টি রুটের প্রস্তাব করা হয়। তবে এর মধ্যে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় প্রথমে। 

মেট্রোরেল নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি করে সরকার। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন শেষে ২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরু হয় ঢাকায় মেট্রোরেলের ঐতিহাসিক অধ্যায়।


বিজ্ঞাপন


২০১৭ সালের ২ আগস্ট উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক শুরু হয়। আর গত বছরের ২৯ আগস্ট মেট্রোরেলের প্রথম ট্রায়ালরান হয় দিয়াবাড়ি থেকে উত্তরা পর্যন্ত।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার নির্মাণের কথা ছিল। পরে তা সংশোধন করে মেট্রোরেলের রুট কমলাপুর পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সাত বছরের দুর্ভোগ শেষে স্বস্তির হাসি
মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরুর একবছর আগে থেকে অর্থাৎ ২০১৫ সাল থেকে গ্যাস, পানিসহ অন্যান্য সার্ভিস লাইন সরানোর কাজ শুরু হয়। ফলে পুরো মিরপুরজুড়ে শুরু হয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। পরে শুরু হয় মেট্রোরেলের পিলার তৈরি ও স্টেশন নির্মাণ কাজ।

এতে করে দিনে দিনে বাড়তে থাকে মিরপুরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রা। বিশেষ করে মূল সড়কের আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি সব যেন থমকে যায়। অনেকের বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা। অনেক জায়গায় ভাড়াটিয়া কমে যায়।

একদিকে ধূলা, রাস্তা সরু হয়ে যাওয়া, মাঝেমধ্যে একদিকের রাস্তা বন্ধ রেখে অর্ধেক রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের সুযোগ রাখা, বর্ষায় হাঁটুপানি হয়ে যাওয়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তি নিয়ে চলেছেন মিরপুরবাসী। তবে দীর্ঘদিনের এই কষ্ট শেষে যেন মিরপুরবাসীর মুখে চওড়া হাসি। কারণ এখন সব কিছু আগের চেয়েও সুন্দর ও পরিপাটি হতে চলছে। অনেকে আবার সড়কের পাশে ব্যবস্যার জায়গা খুঁজছেন। কারণ কয়েকঘণ্টা পর যে আধুনিক বৈদ্যুতিক গণপরিবহনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যে কাজের পেছনের নায়ক হলেন কয়েক হাজার শ্রমিক-প্রকৌশলী। কারণ তাদের ৫ বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি পথের সফল সমাপ্তিতেও থাকবে তাদের হাড়ভাঙা শ্রম।

বিইউ/এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর