সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

সাধারণ যাত্রীরা মেট্রোরেলে চড়বেন আজ, ভাড়া কোন স্টেশন থেকে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম

শেয়ার করুন:

সাধারণ যাত্রীরা মেট্রোরেলে চড়বেন আজ, ভাড়া কোন স্টেশন থেকে কত?

পদ্মা সেতুর পর আরও একটি স্বপ্ন ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানীর বুক চিড়ে গড়ে ওঠা উড়াল রেলযোগাযোগের মধ্যদিয়ে তাই মেট্রোযুগে প্রবেশ করেছে দেশ। বুধবার সব অপেক্ষার প্রহর ঘুচিয়ে ঘটা করেই দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে প্রথম যাত্রী হিসেবে টিকিট কেটে অতিথিদের নিয়ে মেট্রোভ্রমণ উপভোগও করেছেন সরকারপ্রধান।

তবে ঢাকার বুক চিরে ছুটে চলা এই গণপরিবহনে আজ চড়ার সুযোগ পাননি কোনো সাধারণ যাত্রী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে জনসাধারণের জন্য খুলবে মেট্রোরেলের দুয়ার। ফলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এখন ‘চাতকের মতো’ আগামীকালের অপেক্ষায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।


বিজ্ঞাপন


দেশের প্রথম মেট্রোভ্রমণ ঘিরে ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা ও বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্বের অতিরিক্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১০ গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএল বলছে- মেট্রোরেলে চড়ার সময় সঙ্গে পোষা প্রাণী; যেমন- কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি বহন করা যাবে না। পাশাপাশি সঙ্গে রাখা যাবে না বিপজ্জনক বস্তু; যেমন- আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, চাকু। এছাড়া স্টেশনে বা ট্রেনে ফেলা যাবে না থুথু কিংবা পানের পিকও। আর পাবলিক প্লেসের মতো মেট্রোরেলেও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে বসেও কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

যেভাবে মিলবে টিকিট


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার থেকে চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল চলবে দিনে চার ঘণ্টা (সকাল ৮ থেকে দুপুর ১২টা)। এছাড়া উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পথে প্রথম দিকে ট্রেন মাঝপথে কোথাও থামবে না। এ ক্ষেত্রে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশন থেকে টিকিট (কার্ড) কাটা যাবে। পৌনে ১২ কিলোমিটারের এই পথের ভাড়া ৬০ টাকা।

পুরোপুরি চালু হওয়ার আগে স্টেশনে দুই ধরনের কার্ড পাওয়া যাবে। এরমধ্যে একটি স্থায়ী এবং অন্যটি একবারের যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ড। প্রথম দিকে মেট্রোরেল স্টেশন থেকেই এই কার্ড বিক্রি শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে স্টেশনের বাইরেও এটি কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমটিসিএল। ১০ বছর মেয়াদী স্থায়ী কার্ড কিনতে হবে ২০০ টাকা দিয়ে। আর এই কার্ড দিয়ে মেট্রোরেলে ভ্রমণে প্রয়োজনমতো টাকা রিচার্জ করতে পারবেন যাত্রীরা।

কোন স্টেশনে ভাড়া কত?

উদ্বোধনের কয়েকদিন আগেই মেট্রোরেলের ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৫ টাকা। আর সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। অর্থাৎ মেট্রোরেলে চড়তেই লাগবে ২০ টাকা।

ডিএমটিসিএলের প্রকাশিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, উত্তরা নর্থ থেকে পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশন পর্যন্ত ৩০ টাকা, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন পর্যন্ত ৪০ টাকা এবং শেওড়াপাড়া স্টেশন পর্যন্ত ৫০ টাকা গুণতে হবে একজন যাত্রীকে।

এছাড়া পল্লবী থেকে মিরপুর-১১, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ২০ টাকা। তবে পল্লবী থেকে শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত যাত্রীদের গুনতে হবে ৩০ টাকা।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানিয়েছেন, আপাতত মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন (দিয়াবাড়ি) থেকে সরাসরি ট্রেন আসবে আগারগাঁও স্টেশনে। ভাড়া হবে ৬০ টাকা। মাঝে কোনো স্টেশনে ট্রেন থামবে না। আগামী ২৬ মার্চ থেকে মাঝের সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হবে।

ভাড়া লাগবে না যাদের

মেট্রোরেলে চলাচল করতে শিশু ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাড়া দিতে হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুর উচ্চতা ৩ ফুটের কম হতে হবে এবং সঙ্গে অভিভাবক থাকতে হবে। কিন্তু অভিভাবক সঙ্গে না থাকলে ও তিন ফুটের বেশি হলেই ভাড়া দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের হাফপাস থাকছে না

মেট্রোরেলে বাসের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া থাকছে না। তবে যারা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি পাস ব্যবহার করবেন, তারা ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। এ ক্ষেত্রে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, মেট্রোরেলে সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। আর উত্তরা দিয়াবাড়ি (উত্তরা নর্থ স্টেশন) থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত ভ্রমণ করলে ভাড়া গুণতে হবে ৬০ টাকা।

মেট্রোরেলে ধূমপানে মানা

সব পাবলিক প্লেসের মতো মেট্রোরেলেও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে বসেও কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া স্টেশনে বা ট্রেনে কোথাও ময়লা ফেলা যাবে না। পাশাপাশি উচ্চ শব্দে গান বাজানো বা রিংটোন নিষেধ করা হয়েছে।

এসব নির্দেশনার বাইরেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা ছাড়াও সহযাত্রীকে প্রয়োজনে সহায়তা, মনোযোগ দিয়ে ঘোষণা শোনার জন্য প্রস্তুত থাকাসহ সর্বক্ষেত্রে ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

নিয়ম ভাঙায় যেসব শাস্তি

মেট্রোরেল আইনে (২০১৫) বলা হয়েছে, অনুমোদিত দূরত্বের বেশি মেট্রোরেলে ভ্রমণ করলে বা ভাড়া এড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য মেট্রোরেলের যাতায়াতের ভাড়ার ১০ (দশ) গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়াও ডিএমটিসিএল বলছে- মেট্রোরেলে চড়ার সময় সঙ্গে পোষা প্রাণী; যেমন- কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি বহন করা যাবে না। পাশাপাশি সঙ্গে রাখা যাবে না বিপজ্জনক বস্তু; যেমন- আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, চাকু। এছাড়া স্টেশনে বা ট্রেনে ফেলা যাবে না থুথু কিংবা পানের পিকও। আর পাবলিক প্লেসের মতো মেট্রোরেলেও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে বসেও কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

এদিকে, কোনো ব্যক্তি অননুমোদিতভাবে মেট্রোরেলের টিকেট বা পাস বিক্রি বা জাল করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ছাড়াও এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। পাশাপাশি মেট্রোরেলে পরিদর্শককে দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে সেটিকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন কাজে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

অন্যদিকে, মেট্রো বা ট্রেন ছাড়াও স্টেশনের কিছু এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে যদি কেউ ওইসব স্থানে অনুমতি ছাড়েই প্রবেশ করে তবে এটিকে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। এমনকি প্রবেশের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনুরোধেও যদি কেউ ওইসব এলাকা ত্যাগ না করেন তাহলে নিশ্চিত শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে মেট্রোরেল আইনে।

এছাড়াও কোনো ব্যক্তির কারণে যদি মেট্রোরেল বা যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়, তবে ওই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দণ্ডিত হতে পারেন। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করলে ১০ বছরের সাজা ও এক কোটি টাকা জরিমানা, পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করলে দুই বছরের সাজা ও ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে আইনে।

এদিকে, মেট্রোরেল নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে মেট্রোরেল আইনে। পাশাপাশি কারিগরি মান অনুসরণ না করে মেট্রোরেল নির্মাণ ও রোলিং স্টক স্থাপন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদনা করলে পাঁচ বছরের বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সর্বোপরি মেট্রোরেল আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য কেউ দণ্ডিত হওয়ার পর আবারও একই অপরাধ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড, এর দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

/আইএইচ/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর