দুপুর ১টা পার হয়েছে তখন। বেপরোয়া গতিকে ছুটে চলেছে একটি মোটরসাইকেল। তাতে চালকসহ তিনজন চেপে বসেছে। চালক দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেলটি হেলে দুলে টানছে। পেছনে থাকা অন্য মোটরসাইকেল আরোহী পাশ থেকে চিৎকার করে বলছিলেন, এই ভাই আস্তে চালা। তোরা মরবি তো! কে শোনে কার কথা! সেই ক্ষিপ্র গতি নিয়েই মোটরসাইকেলটি ছুটে চললো মহাখালীর রেলগেটের দিকে। এমন বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন দুপুরে আগারগাঁওয়ের বিমান বাংলাদেশ অফিসের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদুল ফিতরের ছুটি হওয়ায় বেশির ভাগ লোকজন রাজধানী ছেড়েছে। প্রায় সড়কগুলো যানবাহন শূন্য। ফলে এই সুযোগে উঠতি যুবকরা মাথায় হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দুইজনের বেশি আরোহী নিয়ে চলাচল নিষেধ থাকলেও তিনজন চলাফেরা করছে বেশির ভাগ মোটরসাইকেলে। আর এদের বেশির ভাগই উঠতি যুবক। যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
একই চিত্র দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর, বসিলা, শ্যামলী, জাতীয় সংসদ, তেজগাঁও ও গুলশানের বিভিন্ন সড়কে।
আজ সড়ক ফাঁকা হওয়ায় এবং ট্রাফিক সদস্যদের নজরদারী কম থাকায় অধিকাংশ বাইকাররা হেলমেট ছাড়া চলাফেরা করছে। তারা কোনো সিগনালও মানছে না। শুধু যুবকরাই নয়, অনেক বাইকার তাদের স্ত্রী, সন্তানকেও হেলমেট ছাড়াই তুলে ছুটছেন গন্তব্যে।
বিজ্ঞাপন
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিকে সারাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। এবার যদিও দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে তেমন কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল রোববার কুড়িল তিনশ ফিট এলাকায় একটি গাড়ি উল্টে একজনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। যদিও বিষয়টি গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি।
এদিকে রাজধানীর ফাঁকা সড়কগুলোতে যাতে কেউ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে না পারেন সেজন্য উদ্যোগও নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। কোনো কোনো সড়কে ব্লক দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুলশানের ৫৫ নম্বর সড়ক ও গুলশান এভিনিউ সড়কে। তবে এর বাইরে আগারগাঁওয়ের প্রধান সড়কগুলোতে তেমন কোনো ব্লক চোখে পড়েনি।
তবে রাজধানীর অধিকাংশ সড়কের মোড়গুলোতে থাকা ট্রাফিক সদস্যদের দেখা যায়নি। শুধুমাত্র বিজয় স্মরণী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেটের সামনে একজন করে ট্রাফিক সদস্যের দেখা মিলেছে। এছাড়াও মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, মোহাম্মদপুর আল্লাহ করিম, আসাদ গেট, জাতীয় সংসদ ভবন, খেজুর বাগান মোড়ে কোন ট্রাফিক সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব সড়কে যানবাহনগুলোর চালকরা যে যার মতো করে চলছেন। কয়েকটি গাড়ি মোড়ে আসছে তারা কিছুক্ষণ থেমে আরেক দিক থেকে আসা গাড়িগুলোকে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এদের বেশির ভাগ হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী।
শুধু কি তাই, গুলশান এলাকার মতো সড়কেও অধিকাংশ বাইকারদের হেলমেট পড়তে দেখা যায়নি। যদিও বিষয়টি ট্রাফিকের নজরে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের বিভাগের সদস্যরা। তবে তারা দেখভাল করছেন।
গুলশান জোনের এসি আবু সায়েম নয়ন বলেন, এমন হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে কেউ যাতে বেপরোয়াভাবে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাতে না পারেন সেজন্য আমরা এমন কিছু সড়কে ব্যারিকেট দিয়েছি। যাতে কেউ সহজে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে না পারেন।
ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি রফিকুল ইসলাম বলেন, যেখানেই আইনের ব্যত্যয় ঘটবে আসার অফিসাররা ব্যবস্থা নেবে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
এসএইচ/এএস