বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই, শারীরিক জটিলতায় ভারি কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়ে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। অনেক আগে বলে রাখলে ঈদের ছুটি মিলে তবে এবার ঈদে ছুটি নেই। ঈদের দিনও ডিউটি আছে। টানা দুজনের হয়ে ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হবে। তারপর মাস শেষে বেতন ১৬ হাজার টাকা। এটা হলো সিকিউরিটি গার্ড আনিস হাসানের গল্প। এমন অনেক সিকিউরিটি গার্ড রাজধানী জুড়ে ডিউটিতে থাকবেন চাকরির দায়ে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে।
আনিস হোসেন মাদারীপুরের বাসিন্দা। রাজমিস্ত্রি ও যোগালি কাজ করে সংসার ভালোই চলত কিন্তু শারীরিক জটিলতায় সেসব ভারি কাজ আর করতে পারেন না। দুই মেয়েসহ ৫ সদস্যদের পরিবারের জন্য ঢাকা মিরপুরের একটি এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন তিনি। গত ৫ বছর ধরে তিনি এ চাকরি করছেন।
বিজ্ঞাপন
আনিস হাসান বলেন, বাধ্য হয়ে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করছি। আগে মাদারীপুরে অন্য কাজ করতাম। আমার চাকরির ডিউটি ৮ ঘণ্টা এতে মূল বেতন পাই ৮ হাজার টাকা। এই দিয়ে নিজের ঢাকায় চলা হয় না। তাই আরেক জনের ডিউটিও করি এতে বেতন দ্বিগুণ হয়। যেটা দিয়ে সংসারে কিছুটা সাহায্য করতে পারি। দুজনের ডিউটি করে মাত্র ১৬ হাজার টাকা বেতন পাই।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করে। ফলে দুজনের আয় দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া দুই মেয়ের মধ্যে একজনকে বিয়ে দিয়েছি আরেকজন স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের ভালো-মন্দ খাওয়ানোর মতো পয়সা বেশির ভাগ সময় থাকে না। ঈদের ছুটিতে যে সবার সঙ্গে দেখা হবে সেই সুযোগও নাই। চাকরির স্বার্থে এখানেই থাকতে হচ্ছে।
আনিস বলেন, পৃথিবীতে আমাদের মতো অসহায় আর কেউ নেই। যারা সারাদিন চাকরির কাজ করেও নিজের সংসার চালাতে পারেন না। কীভাবে যে একেকটা দিন কাটে সেটা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। ঈদে দিনে যদি স্ত্রী আর মেয়েদের সঙ্গে থাকতে পারতাম তাহলে ভালো লাগত। ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই।
এই সিকিউরিটি গার্ডের আবদার, দেশের সরকার যাতে আমাদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে একটা সার্বিক সিদ্ধান্ত নেন। সব গার্ড অন্তত পরিবারের মানুষ নিয়ে ডাল-ভাত খেতে পারে এমন বেতন হলেই চলবে আর বেশি কিছু চাই না।
বিজ্ঞাপন
মিরপুর-১০ এলাকার একটি এটিএম বুথে চাকরি করেন শরিফুল ইসলাম। বয়স ৬০ পার হয়েছে। গত ৭ বছর ধরে বিভিন্ন ব্যাংক ও অফিসের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শরিফুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলায় লেখাপড়া কিছু করিনি তাই ভালো কিছু জানাশোনাও নাই। আগে গ্রামে কৃষি কাজ করে সংসার চালাতাম। কিন্তু বয়স বেশি হওয়ায় সেসব কাজ আর করতে পারি না৷ ২০১৮ সালে ঢাকায় এসে একটা অফিসে প্রথমে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি শুরু করি। সেখানে তিন বছর থাকার পর এটিএম বুথের গার্ড হিসেবে জয়েন করি।
তিনি আরো বলেন, অফিসের গার্ড হিসেবে কাজ করলেও অনন্যা কাজ করতে হতো এতে কষ্ট বেশি হয়। তাই পরে এটিএম বুথে জয়েন করি। আগের অফিসের চেয়ে এটিএম বুথে বেতন কম হলেও এখানেই ভালো। শরীরের ওপর কোনো চাপ থাকে না। তবে এখানের বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। বাড়িতে শুধু স্ত্রী থাকায় সেভাবে কষ্ট বুঝতে পারি না।
শরিফুল আরও বলেন, আমরা যে পরিমাণ সময় ডিউটিতে থাকি সেসময়ের ন্যায্য বেতন পেলেই খুশি। আমরা আমাদের কাজের ঠিকমতো বেতন পাই না। আমরা কাজ অনুসারে অন্তত বেতন পেলে পরিবারের জন্য ভালো হয়।
এএসএল/এএস