মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের দুয়ার খোলা নিয়ে জনমনে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৪৭ এএম
মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের দুয়ার খোলা নিয়ে জনমনে স্বস্তি

স্বপ্নের মেট্রোরেলের জন্য দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মিরপুরসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের। গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ চালুর মাধ্যমে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান হলে তাতেও ভোগান্তি একেবারেই লাঘব হয়নি মিরপুরসহ আশপাশের বাসিন্দাদের। উত্তরা-আগারগাঁও স্টেশনের সঙ্গে পল্লবী স্টেশন যুক্ত হয়ে লাঘব অনেকটা কমে যাবে বলে আশা ওই এলাকার বাসিন্দাদের।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে পল্লবী স্টেশনের দুয়ার। ইতোমধ্যে স্টেশনটি চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।

পল্লবী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, উত্তরা-আগারগাঁও অংশ চালু হলেও এর মধ্যবর্তী সাতটি স্টেশনের একটিও চালু না হওয়ায় ভোগান্তি কমছিল না তাদের। মেট্রোরেল চালু হলেও এ এলাকার বাসিন্দাদের ভরসা ছিল সেই বাস।

বাসিন্দারা বলছেন, এতদিন মনে হচ্ছিল আমরা যারা পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়ায় বসবাস করি, মেট্রোরেল যেন আমাদের জন্য নয়। যাত্রী আছে তাও কেন মাঝপথের স্টেশনগুলো চালু করা হচ্ছে না?

হাবিবুর রহমান নামে পল্লবীর বাসিন্দা বলেন, ‘মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের কারণে গত কয়েক বছর যাতায়াতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অবশেষে স্বপ্নের মেট্রোরেল চালু হয়েছে, তাও স্বপ্নই রয়ে ছিল আমাদের কাছে। আশা করি মেট্রোরেল চড়ে সব কষ্ট-গ্লানি দূর হয়ে যাবে। ভোগান্তি মাথায় নিয়ে বাসে চড়ার দিন শেষ হয়েছে। যথাসময়ে অফিসে পৌঁছানো নিয়ে সবসময় যে শঙ্কা কাজ করেছিল আশা করি সেই শঙ্কা এবার কেটে যাবে।’

নির্মাণ সময়ের ভোগান্তির কথা স্মরণ করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যখন মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয় তখন আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। বছরের পর বছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। নির্মাণ কাজ চলার সময় রাস্তার কোথাও সংকুচিত আবার কোথাও একেবারে চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। বর্ষাকালে হাঁটু-সমান কাঁদা-পানিতে পরিস্থিতি হয়ে উঠতো ভয়াবহ।’

পল্লবীর পর বাকি ছয়টি স্টেশন করে চালু হবে জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট উপ-প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত গণসংযোগ কর্মকর্তা) নাজমুর ইসলাম ভূইয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, ধীরে ধীরে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশনে যাত্রীর চাপ কমছে। কোনো কোনো দিন অধিকাংশ কোচ খালি যাচ্ছে। যাত্রী ডিমান্ড বাড়লেই বাকি স্টেশনগুলো খুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২০.১ কিলোমিটার। গত ২৮ ডিসেম্বর ১১.৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেট্রোরেলের মোট ১৭টি স্টেশনের মধ্যে এই অংশে আছে ৯ স্টেশন। উদ্বোধনের পরদিন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় দিয়াবাড়ী ও আগারগাঁও স্টেশন। এছাড়া এই অংশের বাকি ৭টি স্টেশনের মধ্যে আজ চালু হচ্ছে পল্লবী স্টেশন। এখনও বন্ধ থাকবে এ অংশের ৬ টি স্টেশন।
এই স্টেশনগুলো হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া।

এসব স্টেশনে এখনও নির্মাণ কাজ চলছে। কোথাও কাজ প্রায় শেষের দিকে। কোথাও সংস্কার করা হচ্ছে নিচের সড়ক।

২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ শীর্ষক এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৭ সালের ২ আগস্ট।

ডিএইচডি/এমআর

টাইমলাইন