বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

ঈদে দায়িত্ব পালন করে আনন্দ পাই: ডা. কৃষ্ণ চন্দ্র

সাখাওয়াত হোসাইন
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৫, ১০:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কর্মব্যস্ত ঢাকা এখন ফাঁকা। তারপরেও মানুষের কমতি নেই বিশ্বের অন্যতম এই মেগাসিটিতে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশবাসী যখন টানা ছুটিতে গ্রামে আছেন তখনও অনেকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সরকারি ছুটিতেও অসুস্থ মানুষের সেবায় হাসপাতালগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে রোস্টারে থাকা সব চিকিৎসকই (পুরুষ) সনাতন ধর্মের অনুসারী। আবার কোনো কোনো ওয়ার্ডে সরকারি ছুটিতে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকদের বেশিরভাগ সনাতনী ধর্মাবলম্বী।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, ঈদ এলেই অন্যান্য পেশার কর্মজীবীদের মতো চিকিৎসকরাও পরিবার-পরিজনের কাছে যান। তখন দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য যারা হাসপাতালে নিয়োজিত থাকেন তাদের বেশিরভাগই সনাতন কিংবা অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। তেমনি হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মের পূজা-পার্বন কিংবা অন্যান্য উৎসবের ছুটি এলে ছুটিতে যান ওইসব ধর্মের চিকিৎসকরা। তখন আবার স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকেন মুসলিম চিকিৎসকরা। এ যেন সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনের বাংলাদেশ।

তবে উৎসবগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও চিকিৎসকদের দেওয়া হয় না কোনো ভাতা। তবুও উৎসবগুলোতে আনন্দ নিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান করেন চিকিৎসকরা।

এ নিয়ে রোববার দুপুরে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী ডা. কৃষ্ণ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে।

ডা. কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বলেন, মুসলিম ধর্মের চিকিৎসকরা যখন নিজ ধর্মের উৎসব ঈদের আনন্দ উদযাপনে ছুটিতে যান, তখন আমরা দায়িত্ব পালন করি। এ সময়ে আমাদের কাছে খুবই ভালো লাগে। অন্যরকম অনুভূতি হয়। কেননা, মুসলিম চিকিৎসক ভাইকে তার উৎসব পালনে সহযোগিতা করতে পেরেছি। আর ঈদের ছুটিতে যদি তাদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হতো, তাহলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারতো না। অন্য চিকিৎসকদের কাছে সহযোগিতা করতে পেরে ভালো লাগে।


বিজ্ঞাপন


কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বলেন, ঈদ উৎসবে দায়িত্ব পালন করার জন্য ঈদের আগে বা পরে অন্য ধর্মের (সনাতন, বৌদ্ধ বা অন্যান্য) চিকিৎসককেও আনন্দ সময়ে কাটানোর জন্য ছুটি দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও পরে দেওয়া হয়, তাতে আমরাও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় পাই। সবমিলিয়ে ভালোই লাগে। সেইসঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার যে, আনন্দ, এটি বলে বোঝানো যাবে না।

ছুটিতে চিকিৎসক কম থাকলেও রোগীদের সেবার বিষয়ে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকে না জানিয়ে কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বলেন,‘অন্য সময়ের মতো রোগীদের সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি থাকে। কোনো রোগী যেন সেবা থেকে বাদ না পড়েন সেদিকে নজর থাকে। যদিও উৎসবের ছুটিতে হাসপাতালে চিকিৎসক সংখ্যা কম থাকেন। যত কষ্টই হোক আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার ইচ্ছাটা মাথায় রাখি এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করি। কেননা, সেবা করার প্রতিদান আমাদের স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা দেবেন।

eid-2

ছুটিকালীন ভাতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা যেমন ঈদ উৎসবে দায়িত্ব পালন করি, তেমন মুসলিম ভাই-বোনেরাও আমাদের পূজা কিংবা অন্যান্য উৎসবে দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে সহযোগিতা করেন। এ সময়ে দায়িত্ব পালন করার জন্য দেওয়া হয় না বিশেষ কোনো ভাতা বা প্রণোদনা। তবে সরকারি ছুটিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতা দেওয়া উচিত। তাতে চিকিৎসকরা উৎসাহিত হবেন। আমরা তো দেশের মানুষেরই সেবা প্রদান করি, ভাতা বা প্রণোদনা দিলে চিকিৎসকরা অনুপ্রাণিত হবেন এবং উৎসাহ পাবেন।

ঈদে চিকিৎসা সেবা দিয়ে শঙ্কা কাজ করে জানিয়ে ডা. কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বলেন, ঈদে দায়িত্ব পালনে একটু ভয় কাজ করে। কেননা, এ সময়ে চিকিৎসক সংখ্যা কম থাকে। ওয়ার্ডে একজন বা দু’জন। কোন রোগীর স্বজন এসে বা দুষ্কৃতিকারীরা এসে মারধর করে সেটা তো বলা যায় না। আর ইমার্জেন্সি রোগী তো কম-বেশি আসে, হঠাৎ কী হয়ে যায় সেটা তো কেউ বলতে পারে না। যার কারণে ভয় কাজ করে।

অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা হাসপাতালে থাকেন দেশের মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। সরকারি ঈদ কিংবা পূজার ছুটিতে চিকিৎসকদের মনে যেন বেশি ভয় কাজ না করে সেজন্য হাসপাতালে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা মোতায়েন করা প্রয়োজন। যেন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। তাতে মনোবল নিয়ে সেবা দিতে পারবেন চিকিৎসকরা। এর সুফল ভোগ করবেন দেশের মানুষই।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর