‘সব ত্রাণ চলে যায় গ্রামে, শহরে গরিবরা না খেয়ে মরে’

মিনহাজুল ইসলাম সুনামগঞ্জ থেকে
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২, ০২:৫০ পিএম
‘সব ত্রাণ চলে যায় গ্রামে, শহরে গরিবরা না খেয়ে মরে’

‘গত মাসের বেতনের পুরো টাকাটা দিয়া ঘরে নতুন ফ্রিজটা কিনছি, আর এই বন্যায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। নিচু ঘরে রাতের বেলা কখন পানি ঢুকছিল টেরও পাই নাই ভালো মতো। কতদিকে কত সাহায্য আসে কই এইদিকে তো আমরা কিছুই পাই না। সব খালি গ্রামের দিকে নিয়ে যায় কেন ভাই শহরে কি গরিব মানুষ নাই? আমরা শহরে থাকি বলে আমাদের খাওয়া লাগে না পানি লাগে না? আমাদের দিকে কেউ একটু মুখ তুলেও তাকায় না।’

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাজীপাড়ার বাসিন্দা শিবানী রাণী তার দুঃখ দুর্দশার কথা এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে বলেন।

গত ১৫ জুন থেকে বন্যার পানি সদর উপজেলায় প্রবেশ করায় এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে চলেছে সমান্তরাল। স্থানীয়রা বলছেন, ২০০৪ সালের বন্যাতেও এত পানি শহরে প্রবেশ করেনি যা এই সালের বন্যায় প্রবেশ করেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাজীপাড়া আবাসিক অঞ্চলের আরেক বাসিন্দা সোওয়াব আলী বলেন, শুক্রবার রাতে হু হু করে পানি বেড়ে গেছে। আমার বিল্ডিংয়ের নিচের তালার সব ফার্নিচার ও একটি আলমারিতে থাকা সব কাচের জিনিস ভেঙে গেছে। কোনো ভাবে শুধু জামা কাপড় আর টিভি ফ্রিজগুলো উপরে তুলেছি। ২০০৪ সালের বন্যায় আমার ঘরে হাঁটু সমান পানি উঠে কিন্তু এবার তা কোমর ছাড়িয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরে যত দ্রুত পানি প্রবেশ করেছে তত দ্রুত নামছে না। দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য দিয়ে পানি নামার বিভিন্ন মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে অনেক সময় লাগছে। যার ফলে গত আটদিন যাবত নগরীতে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সংকট। যার মধ্যে সুপেয় পানির অভাব অন্যতম।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ডিপ মটর টিউব ওয়েল না থাকা ও চাপকলগুলো ময়লা পানির নিচে থাকায় সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এমএইচ/এএস

টাইমলাইন