দুর্গতদের জন্য সেনা-নৌ-বিজিবির কর্মযজ্ঞ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২, ০২:১২ পিএম
দুর্গতদের জন্য সেনা-নৌ-বিজিবির কর্মযজ্ঞ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যা দুর্গত সিলেট অঞ্চলে উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হাজার হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। একই সঙ্গে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড। সরকারের নির্দেশে সামরিক বাহিনী সিলেট অঞ্চলে এ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

বুধবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

২১ জুন পর্যন্ত সিলেটে বিভিন্ন বাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১৭ ও ১৯ পদাতিক ডিভিশন মোট ১১ হাজার ৩৮০ পরিবারকে উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে ২৩ হাজার ৪৪৬ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও ১০ হাজার ৩১৪ পরিবারের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।  

এছাড়া নৌবাহিনীর ছয়জন কর্মকর্তা ও ১০০ জন ডুবুরি ২০০ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও ৩০ পরিবারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৭০ জন কর্মকর্তা ও এক হাজার ৫৫০ জন জোয়ান মিলে এক হাজার ২০০ পরিবারকে উদ্ধার, চার হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও ৫০০ পরিবারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। কোস্ট গার্ডের চারজন কর্মকর্তা ও ৭৬ জন নাবিক মিলে ১০০ পরিবারকে উদ্ধার, ৬০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও ৩০ পরিবারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক বোট, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য যানবাহন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫০০ জন সদস্য সাতটি হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানসহ সিলেট এলাকায় উদ্ধারকার্য পরিচালনা ও ত্রাণ বিতরণের জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাবেসক লীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মীদের দুর্গত মানুষদের সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজ চালাচ্ছে।’

sena

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গতকাল নিজে সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোণা জেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যা কবলিত সিলেট অঞ্চলে এক হাজার ২৮৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে।’

বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারি সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত বনা কবলিত ১১টি জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং তিন কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনা এবং অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির। আমরা তার ব্যবস্থাই করছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও সাধ্যমত দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো এবং রান্না করার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।’

সার্বিক অবস্থার বর্ননা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে। বন্যার পানি নেমে গেলে বাড়িঘর মেরামত এবং কৃষি পুনর্বাসনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের নির্দিষ্ট করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

কারই/জেবি

 

টাইমলাইন