শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৪ এএম

শেয়ার করুন:

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার 
দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ২৩,৭০০ জনের বেশি

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এখন প্রায় ২৪ হাজার। সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ২৩,৭০০ জনের বেশি। শুক্রবার তুরস্কে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০,২১৩ জনের বেশি হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ায় ৩,৫০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ বলেছে যে ভূমিকম্পের পরে সিরিয়ায় ৫৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হতে পারে। এখন তুরস্ক এবং সিরিয়ায় প্রায় ৯ লাখ লোকের জরুরি খাদ্যের (গরম খাবারের) প্রয়োজন রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সিরিয়ার সরকার তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা বিতরণের অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, তুরস্কে অন্তত ১৮,৯৯১ জন নিহত হয়েছে, যা দেশের ধ্বংসাত্মক ১৯৯৯ সালের ভূমিকম্পের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও'-এর কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন যে নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ আফাদ জানিয়েছে, কমপক্ষে ২,৮৩৪টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজিয়ান্তেপ শহর। ভূমিকম্পের পরে শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। 

সোমবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে এই ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। বেশিরভাগ মানুষ তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বহুতল ভবন ধসে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। মোমের মতো ধসে পড়েছে একাধিক ভবন। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তৃত এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মিসর, লেবানন ও সাইপ্রাস থেকেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ‘তুরস্ক-সিরিয়ায় সংঘটিত ভূমিকম্পে বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

ডব্লিউএইচও-এর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডেলহেইড মার্শাং বলেন, ‘ভূমিকম্প যেসব অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে, তার মানচিত্র অনুসারে বলা যায় যে দুই কোটি ৩০ লাখ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ অরক্ষিত অবস্থায় আছে।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ভূমিকম্প কবলিত অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

জেনেভায় ডব্লিউএইচও-এর নির্বাহী কমিটিকে মার্শাং বলেছেন, ‘ডব্লিউএইচও মনে করে যে সিরিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন জরুরি পণ্যের অভাব দেখা দিবে। এমনকি দেশটিতে মধ্যমেয়াদী সময়ের জন্য আরও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই অঞ্চলে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত আফটারশক হতে পারে। সিএনএনের আবহাওয়াবিদ ক্যারেন ম্যাগিনিস ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে ভূকম্পনের বৈশিষ্ট্যের কারণে আফটার শক পরের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্তও অনুভূত হতে পারে।

সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

এমইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর