ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকায় যেসব আসনে জামায়াতের বিজয় হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা-৪, ৫, ৬, ১২, ১৪, ১৫ এবং ১৬ আসন।
আরও পড়ুন: সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী, ৬ জনই বিএনপির
ঢাকা-৪: ঢাকা-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নুল আবেদীন। ঢাকা-৪ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-৪ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৫৫২টি। সে হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৯টি। ভোট পড়ার হার ৪৫ শতাংশ। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ফুটবল প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা-৫: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ফলে ৯ হাজার ১৫০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
আরও পড়ুন: ফাঁসির সেল থেকে সংসদে
ঢাকা-১২: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ২২ হাজার ১৮০ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এর সাধারণ সম্পাদক (কোদাল প্রতীক) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অপরদিকে, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল সংগ্রহ ও সমন্বয়ের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৮ জন। প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে বিজয়ী প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির জয় ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে
ঢাকা-১৪: ঢাকা ১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।
শুক্রবার ভোর চারটায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-১৪ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে এই আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম ১৭ হাজার ৭৯০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ থেকে ১২ পর্যন্ত ওয়ার্ড ও সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১৪ আসন গঠিত।
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৩১২টি। বাতিল হয় ৩ হাজার ৩৫৬টি। বৈধ ভোট হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৯৫৬টি। ঢাকা-১৪ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক ফুটবল প্রতীকে ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবু ইউসুফ হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-১৫: ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের আমির মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার আছেন। আটজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন, শফিকুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), শফিকুল ইসলাম খান (ধানের শীষ), সামসুল হক (লাঙ্গল), আহাম্মদ সাজেদুল হক (কাস্তে), খান শোয়েব আমান উল্লাহ (কলম), মোবারক হোসেন (একতারা), আশফাকুর রহমান (মোটরগাড়ি) ও নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি)।
ঢাকা-১৬: ঢাকা-১৬ আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। এই আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
টিএই/এমআই




























































































































































































































