ভোরের আলো ফুটতেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শুরু করেছেন লাখো বাংলাদেশি। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর অনেকেই প্রথমে তাকান নিজের আঙুলের দিকে। ছোট্ট একটি কালো রেখা— যার মূল্য অনেক। এই রেখাটি কেবল ভোট প্রদানের প্রমাণ নয় বরং গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের একটি প্রতীকও।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এই কালি এত সহজে কেন ওঠে না? কী আছে এতে? নির্বাচনে অমোচনীয় কালিই বা কেন ব্যবহার করা হয়?
বিজ্ঞাপন

ভোটে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয় কেন?
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে বিপুল মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ লাইন এবং নানা প্রশাসনিক চাপে কখনো কখনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়। কেউ যেন একবারের বেশি ভোট না দিতে পারে তার জন্য প্রয়োজন একটি কম খরচের দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদ্ধতি। এই কাজটিই করে অমোচনীয় কালি।
ভোটার তালিকায় নাম মিলিয়ে ভোট দেওয়ার পর ভোটারের বাম হাতের তর্জনী বা নির্দিষ্ট আঙুলে কালি লাগানো হয়। এই কালি সহজে ওঠে না। ফলে একই ব্যক্তি আবার ভোটকেন্দ্রে গেলে সহজেই বোঝা যায় যে তিনি এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

কী থাকে এই কালিতে?
ভোটের কালিতে সাধারণত সিলভার নাইট্রেট নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের ওপরের স্তরে থাকা কেরাটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে কালি আরও গাঢ় হয়ে যায়— কালচে বা বাদামি রঙ ধারণ করে।
এটি কেবল উপরিভাগে লেগে থাকে না, বরং ত্বকের কোষের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

সাবান ঘষেও কেন এই দাগ মোছা যায় না?
সাধারণ কালি বা রঙ ত্বকের ওপরে বসে থাকে। কিন্তু ভোটের কালি ত্বকের ভেতরের মৃত কোষস্তরে পৌঁছে যায়। তাই সাবান, পানি বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করেও সহজে ওঠানো যায় না।
দাগ মিলিয়ে যেতে সময় লাগে। কারণ ত্বকের পুরনো কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়লেই ধীরে ধীরে কালি ফিকে হয়।

কতদিন থাকে দাগ?
সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত এই দাগ স্থায়ী হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি দুই সপ্তাহ পর্যন্তও থাকতে পারে। ত্বকের ধরন ও যত্নের ওপর সময় কিছুটা নির্ভর করে সময়।
জোর করে তুলতে যাবেন না
অনেকে দ্রুত দাগ তুলতে ঘষাঘষি করেন কিংবা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিকভাবে মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
মনে রাখবেন, আঙুলের ছোট্ট এই দাগ তাই কেবল কালি নয়—এটি সচেতন নাগরিকত্বের একটি দৃশ্যমান চিহ্ন।
এনএম









































































































































































































