সারাদেশের ন্যায় ফেনীতেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এর ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের সরিষাদি বালিকা বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু।
ভোট প্রয়োগ করে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, উৎসবমুখর এ ভোট রুপান্তরিত বাংলাদেশের পক্ষেই হবে। ঈগল প্রতীক হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক। ইনসাফের প্রতীক। নতুন বাংলাদেশের প্রতীক।
বিজ্ঞাপন
‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ উৎসব ধরে রাখতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চাই। নতুন একজন প্রার্থী হিসেবে ফেনী সদর উপজেলায় আমি যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি, সেই আলোকে বিপুল ভোটে ফেনী-২ আসনে ঈগল প্রতীকের বিজয় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি’— যোগ করেন তিনি।
ফেনী সদর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-২ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার। এর মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার পুরুষ, ২ লাখ ১১ হাজার নারী ও ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। ১৪৬টি ভোট কেন্দ্রে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে।
ফেনী-২ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এনারা হলেন- বিএনপির জয়নাল আবেদিন (ধানের শীষ), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞা (ঈগল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদীর (বাসদ) জসিম উদ্দিন (কাচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী তাহিরুল ইসলাম (আপেল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক), আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র মো. ইসমাইল (ঘোঁড়া)।
জেলা রিটার্নিং অফিসের তথ্যমতে, ফেনীর ৩টি আসনে সংসদ সদস্য পদে ১৭ দলের ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ৪২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ২৪৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ, ৫৩ টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোট প্রয়োগে সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রাখা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৮ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, পুলিশের ৫৪ টি মোবাইল টিম, পুলিশের ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, আনসার ১২ প্লাটুন মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও মাঠে দায়িত্ব পালন করবে ১৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক জানান, ফেনীর ৩টি সংসদীয় আসনের ৪২৮ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন ১৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটার। ফেনীতে পোস্টাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪০ হাজার ৮ জন। আজ সকাল আটটা পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি/এনএম









































































































































































































