ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়েছে। ভোটকে ঘিরে আগারগাঁওতে নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় আগারগাঁও এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনে যাওয়া যায় এমন সব প্রবেশদ্বারে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ভবনের দিকে কেউ গেলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের এপিসি, জলকামান এবং ফায়ার ট্রাক প্রস্তুত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের-ডিএমপি হেড কোয়াটারের ইন্সপেক্টর আলী আকবর ইসি ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের মোট ৪৯ জন সদস্য এখানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো। কোনো আশঙ্কা নাই। এছাড়া আনসার, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছে।’
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সহিদ আব্দুস সালাম জানান, সব বাহিনী আছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
সকালে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে না; পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বিজ্ঞাপন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে এবার অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রার্থীদের মধ্যে নারী ৮৩ জন-দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী নেই।
এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোট তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারবেন না। ফলে আজ ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।
নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকছেন ৩৯২ জন। দেশি পর্যবেক্ষক থাকতে পারেন ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন। প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, তাদের মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক প্রায় ১৫৬ জন।
রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। এ ছাড়া প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, আনসারের পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসির এক হাজার ৯২২ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় দুই হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
এমএইচএইচ/এমআর









































































































































































































