সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

আন্দোলনের ‘রসদ’ দেখছে বিএনপি

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০২ এএম

শেয়ার করুন:

আন্দোলনের ‘রসদ’ দেখছে বিএনপি

প্রায় তিন মাস ধরে সাংগঠনিক বিভাগগুলোতে বড় ধরনের জমায়েতের মধ্যদিয়ে বিভাগীয় সমাবেশের পালা শেষ করেছে বিএনপি। সবশেষ ঢাকার গণসমাবেশে সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেয় দলটি। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এসব কর্মসূচি থেকে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, ঐক্য দৃঢ় হওয়া, হাইকমান্ডের প্রতি তৃণমূলের আনুগত্য প্রদর্শন ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। শুধু তাই নয়, বিভাগীয় সমাবেশের অর্জন আগামী দিনের আন্দোলনে রসদ জোগাবে বলেও মনে করছেন তারা। দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলাপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সবশেষ গত শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দফার কর্মসূচি শেষ করল বিএনপি। এর আগে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায়, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে করেছে বিএনপি।


বিজ্ঞাপন


দেশজুড়ে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বাস্তবেও তাই হয়েছে। যে কারণে নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও কৌশলী হয়ে মাঠে থাকার বার্তা ছিল। এ বার্তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মনে করছে দলটির হাইকমান্ড।

কর্মসূচি শেষ হতেই এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন নেতাকর্মীরা। শিগগিরই শীর্ষ নেতারা কর্মসূচির লাভ-ক্ষতির হিসাব কষতে বসবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিভাগের দায়িত্বশীল ও নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানোরও চিন্তা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশজুড়ে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বাস্তবেও তাই হয়েছে। যে কারণে নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ ও কৌশলী হয়ে মাঠে থাকার বার্তা ছিল। এ বার্তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মনে করছে দলটির হাইকমান্ড।

প্রতিটি সমাবেশের কয়েকদিন আগে থেকেই মাঠে উপস্থিত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্ট সব জেলার নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মাঠেই খাওয়া-দাওয়া সেরেছেন। নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করেছেন। এমন কর্মকাণ্ডের মাঝেও সফলতা দেখছেন বিএনপি নেতারা।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: বিএনপির ১০ দফা দাবিতে সমর্থন দিয়েছে যেসব দল

বিভাগীয় সমাবেশগুলোর অর্জন আগামীতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতৃত্ব শক্তিশালী হয়েছে- এটাই বড় সফলতা। ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে একাত্ম হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে সমাবেশ ঘিরে। আমরা তো মনে করি শান্তিপূর্ণ সফল কর্মসূচি ছিল বিভাগীয় সমাবেশ।

বিএনপির প্রভাবশালী একজন ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘হামলা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে, সমাবেশে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও দেখেছেন আমাদের কর্মীরা পাল্টা হামলায় গেছে? কারণ বড় ঘটনা ঘটলেই সমাবেশ পণ্ড হয়ে যেত। কিন্তু একজন কর্মীও সেদিকে যায়নি।’

অবশ্য শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ এখনই কর্মসূচি নিয়ে মূল্যায়ন করতে রাজি নন। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, কতটা মাঠে থাকা যায় তা দেখে মূল্যায়ন করতে চান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এখনই ফলাফল বলার সময় আসেনি। কারণ লম্বা সময় বাকি। তবে এটা ঠিক আমরা সংগঠন গোছাতে সক্ষম হয়েছি। এর প্রভাব সামনের দিনগুলোতে দেখা যাবে।’

bnp5-তবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ‘ঘোষিত বা অঘোষিত ধর্মঘটের’ মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপি এসবের জন্য সরকারি দলকে দায়ী করলেও ক্ষমতাসীন দল বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে ঢাকার সমাবেশ নিয়ে। বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়। শেষ মূহূর্তে স্থান নিয়ে টানাটানির মধ্যে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়ে। এতে একজন নিহত হয়। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশের অনেক সদস্যও আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি চালায় এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। গ্রেফতার করা হয় কেন্দ্রীয় একাধিক নেতাসহ ৩ শতাধিক কর্মীকে। শুধু তাই নয়, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকেও গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: উৎকণ্ঠার দিন শেষে স্বস্তি ফিরল জনমনে

শেষ পর্যন্ত সমাবেশ হবে কি হবে না তা নিয়েও চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেয় নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার। পরে গোলাপবাগ মাঠে বড় জমায়েত করে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা ওয়ার্মআপ শেষ করলাম। নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছে তাদের ভয় কেটে গেছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা মাঠে থাকবে। বিশ্বাস করি আমাদের জয় হবেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে আমরা অনিয়ম, দুর্নীতির পাশাপাশি নির্যাতনের মধ্যে থেকেও সমাবেশগুলোতে প্রমাণ করেছি আমাদের ঐক্যের ঘাটতি নেই। সরকারকেও বার্তা দিতে পেরেছি- কোনো বাধা এখন আর আমাদের জন্য বাধা নয়। সবচেয়ে বড় হলো আমাদের কর্মীরা এখন নেতৃত্ব দেয়ার শক্তি ও সক্ষমতা অর্জন করেছে।’

সমাবেশ থেকে বিএনপির অর্জন কী- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিএনপির তার নিজস্ব শক্তি, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা দূর করা, সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপিকে পৌঁছাতে পারা ও ঐক্যের প্রমাণ হয়েছে বিভাগীয় সমাবেশে। আগামীদিনে যা কাজে দেবে।’

বিইউ/জেএম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর