সরকারকে বিদায় নিয়ে নিরপেক্ষ ভোট দিতে হবে: মোশাররফ

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রী ‌শেখ হাসিনাকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকের সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। এজন্য আমি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আপনারা জানেন, আজকে যিনি এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাকে আটক করা হয়েছে গভীর রাতে।’

bnp2

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রমাণ করেছেন নেতার জন্য নয়, আপনারা দেশের জন্য রাজনীতি করেন। এই সমাবেশ বানচাল করার জন্য প্রশাসন ত্রাস সৃষ্টি করেছে। আমাদের এক নেতা পুলিশের গুলিতে নিহত, আরও শত শত আহত হয়েছেন। আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সকল সম্পদ পুলিশ নিয়ে গেছে। পুরো কার্যালয় তছনছ করে গেছে।’

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকার এখন জনতার ভয়ে ভীতু। এজন্য আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সভা সমাবেশ করার আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু সেখানেও বাধা। কারণ আমরা মানুষের ভোটের অধিকারের কথা বলছি। নিরাপত্তার কথা বলছি। আমরা জানি এই বাংলাদেশের মানুষ আর সরকারকে ভয় পায় না। মানুষ এখন শেখ হাসিনার বিদায় চায়। খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ছে। এতে মানুষ কী বার্তা দিচ্ছে। মানুষ এখন সরকারকে সরে যেতে বলছে। মানুষ আর হাসিনা সরকারকে দেখতে চাচ্ছে না। মানুষ এখন নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র নেতৃত্ব চাচ্ছে। এই সরকারকে এখন আর বিশ্বাস করে না।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক দিক থেকে খাদের কিনারায় পড়ে গেছে। দেশ থেকে ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে গেছে। তারা বিচাব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। যার কারণে বেগম জিয়া মুক্তি পাননি। অন্যায়ভাবে তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছে। আজকের সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। যার উদাহরণ পুলিশ আমাদের পার্টি অফিসে যা করেছে। শেখ হাসিনার পক্ষে আর দেশ চালানো সম্ভব নয়। আজকে দেশের জনগণ শুধু গরিব হয়। ২০ ভাগ গরিব এখন ৪০ ভাগে গিয়েছে। এই সরকারের এখন বিদায় চায় মানুষ। এই সরকারকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।’

দশ দফা উপস্থাপন করে তিনি বলেন, ‘যারা যুগপৎ আন্দোলন করবে তাদের সাথেও আলোচনা করেছি।’

bnp44

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। ভোট হবে ব্যালটে। বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আইসিটি মামলা বাতিল করতে হবে। বিদ্যুৎ জ্বালানি দাম কমাতে হবে। নিত্যপণ্যের বাজার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির বিচারে কমিশন গঠন করতে হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন রাখতে হবে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও পুলিশের গুলিতে নিহতের প্রতিবাদে আগামী ১৩ ডিসেম্বর দেশব্যাপী গণমিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন খন্দকার মোশারফ।

এছাড়া আগামী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে গণসমাবেশ থেকে ঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়নে গণমিছিল করা হবে। এ কর্মসূচি প্রথমবারের মতো যুগপৎভাবে করবে বিএনপি।

এমই/জেবি

টাইমলাইন