সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যে আতঙ্ক ছিল তা নেই: হারুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যে আতঙ্ক ছিল, তা আর নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, মানুষ নির্বিঘ্নে সমাবেশে আসতে ও যেতে পারছে। কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, আটকও করা হচ্ছে না।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি মতিঝিল কার্যালয়ের কাছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


হারুন অর রশিদ বলেন, বিএনপির সমাবেশ সুন্দরভাবে শেষ করতে কাজ করছে পুলিশ। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল সমাবেশ হয় কি না বা কোনো বিশৃঙ্খলা হয় কি না। তবে আজ মানুষ বিশ্বাস করছে শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে বিএনপির সমাবেশ।

ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, আমরা চাচ্ছি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেন স্বাভাবিক থাকে, মানুষ যেন আতঙ্কিত না হয়। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে, যাতে করে বিএনপি তাদের ডাকা সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ কাজ করছে। যার কারণে এখনও ঢাকায় কোনো ঝামেলা হয়নি, হয়নি আইনশৃঙ্খলার অবনতি। সমাবেশস্থলেও ঘটেনি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা। 

বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষ করে ঘরে ফিরবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে হারুন বলেন, শুক্রবার, শনিবার সরকারিসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি। যে কারণে দুই দিন রাজধানীতে চাপ কম থাকে। আজ শনিবার যে কারণে ফাঁকা লাগছে রাজধানী। আর চেকপোস্ট পরিচালনা নিরাপত্তার স্বার্থে, পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, গোলাপবাগে সমাবেশ শেষ করে স্বাভাবিকভাবে ফিরে যাবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু কেউ যদি কোনো নাশকতার চেষ্টা করে, সরকারি এবং জনগণের সম্পদের ভাঙচুরের চেষ্টা করে তাহলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


বিজ্ঞাপন


নয়াপল্টনের রাস্তায় ব্যারিকেটের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ

এদিকে শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। কাকরাইল থেকে নয়াপল্টনে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় যাওয়ার সড়কে ব্যারিকেটের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নয়াপল্টনে ব্যারিকেট দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের কিছু ইন্টেলিজেন্স আছে। এখানে যেকোনো ধরনের নাশকতা হতে পারে। যদিও আমরা আশা করছি সেটা হবে না। কিছু গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকে, তবে বিএনপির গণসমাবেশ যদি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এসব নিরাপত্তা বলয় উঠে যাবে। ঢাকা শহর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।

harun2

নয়াপল্টন এলাকা কতদিন অবরুদ্ধ থাকবে, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, এভাবে সবসময় থাকবে না। তিন দিন আগে যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, আজ সমাবেশের পরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব চলাচলের রাস্তা ও দোকানপাট খুলে দেওয়া যায় কি না। এটা একসময় উন্মুক্ত হয়ে যাবে, স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, দলটির নেতাকর্মীরা ঘরে না ফেরা পর্যন্ত নয়াপল্টনসহ পুরো রাজধানী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে।

হাফিজ বলেন, গোলাপবাগ এলাকায় ট্যাফিক ডাইভারশন দিয়েছি, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। এছাড়া ঢাকা শহরে যানবাহনও চলছে। পাশাপাশি সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছি। মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রেখেছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা বলেছি, মিরপুর বাঙলা কলেজে। তারা পরিদর্শনও করলো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কথা শুরু থেকে বলেছি। কিন্তু শেষে তারা এ মাঠে চেয়েছে। আমরা দিয়েছি। আমরা আর এদিকে এগোব না, চাচ্ছি নির্ধারিত এ প্রোগ্রাম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হোক।

হাফিজ বলেন, আমরা বিগত কয়েক দিনের কতগুলো ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। ঢাকা মহানগরে যে জনগণ রয়েছে তাদের নিরাপত্তা ও সমাবেশের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ বলয়ের ব্যবস্থা রেখেছি।

ডিএইচডি/এমআইকে/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর