রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

শেয়ার করুন:

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তার দেশ ‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।’ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, গত প্রায় দুই সপ্তাহের হামলায় ইরান মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরান আর আগের ইরান নেই।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে ভাষণ দিলেন।


বিজ্ঞাপন


২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলাগুলো ইরানকে তাদের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক প্রকল্পগুলো ভূগর্ভে সরিয়ে নিতে বাধা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বিদ্রূপ করে বলেন, তিনি এই দুই নেতার কারোর জন্যই কোনো ‘জীবন বিমা’ করবেন না (অর্থাৎ তারা নিরাপদ নন)।

তিনি খামেনিকে ‘বিপ্লবী গার্ডের পুতুল’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির বিবৃতি একজন সংবাদ পাঠক পাঠ করার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামা ইরানিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে, এটি আপনাদের হাতেই।’

তার এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বিবৃতির প্রতিধ্বনি, যিনি বারবার ইরানিদের তাদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে ‘তাদের স্বাধীনতার সময় আসন্ন।’


বিজ্ঞাপন


ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ ইসরায়েলকে এই অঞ্চলে নতুন জোট গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। অতীতে এটি সম্ভব ছিল না, কিন্তু এখন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

এদিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু তেল টার্মিনাল কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এবং নিরাপত্তার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এই হামলাগুলো অদূর ভবিষ্যতের জন্য পারস্পরিক আস্থার ক্ষতি করেছে।

গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিস) সমর্থিত একটি খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যেখানে জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং তেহরানকে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর মাধ্যমে ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই কূটনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়েছে।

রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ বলেন, নেতানিয়াহুর এই সংবাদ সম্মেলন ছিল যুদ্ধের বর্ণনাকে নতুন করে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা, যাতে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরা যায়। চলতি বছরের শেষের দিকে হতে যাওয়া সংসদীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই তিনি এটি করছেন।

ওদেহ বলেন, ‘নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন এর মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি আরেকটি বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না। তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখনই প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে তিনি একটি আসন হারাচ্ছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপ দেশটিতে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও, যারা সরাসরি ধ্বংসলীলা দেখছেন তারা সংবাদমাধ্যমের কভারেজে না থাকায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ।’

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর