সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে ‘শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হতে পারে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমেছে তেলে দাম। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে (জিএমটি) ব্রেন্ট ফিউচার ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১৭ ডলার বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। আর  আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ৮১ ডলার বা ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৯৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। 


বিজ্ঞাপন


এরআগে সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে সর্বোচ্চ। মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাত এবং কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিতের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প।

ক্রেমলিনের একজন মুখ্যপাত্র জানান, ফোনালাপে পুতিনকে ইরান যুদ্ধ দ্রুত সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। দুই নেতার এই কথোপকথনে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ কমার ভয় কিছুটা কমে আসে। ফলে তেলের দামও কিছুটা কমে। 

পরবর্তীতে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুবই দ্রুত শেষ হবে’, কারণ ওয়াশিংটন আগের অনুমান করা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের সময়সীমার চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। 


বিজ্ঞাপন


এদিকে বিশ্লেশকরা বলছেন, বর্তমান দাম কমলেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে। 

ডিবিএস ব্যাংকের এনার্জি সেক্টরের টিম প্রধান শুভ্র সরকার বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্যে বাজার শান্ত হয়েছে। যদিও গতকাল দাম বেশি ওঠা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ছিল। আজ কিছুটা কমে যাওয়াও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের (মুরবান এবং দুবাই) তেলের দাম এখনও ১০০ ডলারের ওপরে, তাই বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব পরিবর্তন হয়নি।’

প্রসঙ্গত, তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রেই প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে, তার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। 

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর