মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বাবার কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোজতবা খামেনি, আশা পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বাবার কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোজতবা খামেনি, আশা পুতিনের

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে তেহরানের প্রতি মস্কোর ‘অটল’ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। 

সোমবার ক্রেমলিনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুতিন বলেন, “তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, মোজতবা খামেনি তার বাবার (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং ‘কঠিন পরিস্থিতির মুখে’ ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন”।

তেহরানের প্রতি রাশিয়ার ‘অবিচল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘রাশিয়া তেহরানের পাশে থাকবে। আমরা আমাদের ইরানি বন্ধুদের সাথে সংহতি নিশ্চিত করতে চাই’।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সন্তুষ্ট নন’ বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বরাত দিয়ে রক্ষণশীল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়।

ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প তাঁকে বলেছেন, ‘আমি সন্তুষ্ট নই।’

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যে-ই হোন— তাকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। নাহলে তিনি বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না।

এছাড়াও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি উত্তরসূরি যেই হবে তাকে নির্মূল করা হবে’।

এরআগে রোববার ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা) ভোটের মাধ্যমে ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। এর ফলে তিনি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের পর তৃতীয় সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন- আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (১৯৭৯-১৯৮৯), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা সদ্য প্রয়াত আয়াতুল্লা আলী খামেনি (১৯৮৯-২০২৬)। 

মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করার মাধ্যমে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পিতা-পুত্রের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরকে চিহ্নিত করেছে, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর রাজতন্ত্র উল্টে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন। 

যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানের ভবিষ্যৎ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ মোজতবা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ (হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাসসহ)-এর নেতৃত্বও পাবেন।

অনেকের ধারণা, মোজতবা তার বাবার কঠোর নীতিগুলোই অব্যাহত রাখবেন। কেউ কেউ এটাও মনে করেন যে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় যিনি তার বাবা, মা ও স্ত্রীকে হারিয়েছেন, তিনি পশ্চিমা চাপের কাছে সহজে নতি স্বীকার করবেন না।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর