সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর হুহু করে বেড়েছে তেলের দাম

তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির নিকটে তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র -ইসরায়েলের যৌথ হামলার কড়া জবাব দিতে ইরানও আক্রমণ অব্যাহত রাখার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনার জেরে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।

ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে এবং একটি ‘অজ্ঞাত বিক্ষিপ্ত অস্ত্র’ তৃতীয় আরেকটি জাহাজের ‘খুব কাছে বিস্ফোরিত’ হয়।


বিজ্ঞাপন


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবরে এশিয়ায় সোমবার সকালের লেনদেনে তেলের দাম একলাফে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। এসময় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৬ ডলার ১৬ সেন্টে বিক্রি হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের দাম বেড়ে যায়, সেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭০ ডলারে বিক্রি হয়।

এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সউল কাভানিক বিবিসিকে বলেন, ‘বাজারে আতঙ্ক ছড়ায়নি।’

তিনি আরও জানান, একটি বিষয় পরিষ্কার, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান নিশানা বানায়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে তেলের দাম আবার কমতে থাকবে।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকলে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কিছু বিশেষজ্ঞ।


বিজ্ঞাপন


হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ হামলার পর এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে ইরান। ইরানের এ হুমকির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ট্যাঙ্কার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুড়ে গেছে। যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগর জুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ঘটনার’ খবর পাওয়া গেছে এবং তারা জাহাজগুলিকে ‘সাবধানতার সঙ্গে চলাচল’ করার পরামর্শ দিয়েছে।

শিপ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলারের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপারে খোলা উপসাগরীয় জলসীমায় কমপক্ষে ১৫০টি ট্যাংকার নোঙর ফেলেছে, যদিও আজ ইরানি এবং চীনা জাহাজের মুষ্টিমেয় জাহাজ এই অঞ্চল দিয়ে গেছে।

কেপলারের হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ‘ইরানের হুমকির কারণে, প্রণালীটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকি খুব বেশি এবং তাদের বীমা খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় জাহাজগুলি প্রবেশ না করার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।’

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর