লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা গতকাল মঙ্গলবার উত্তর ইসরায়েলের হাইফা নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইরান-সমর্থিত শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ এ হামলা চালায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের এই হামলা ইসরায়েলের ‘অপরাধপ্রবণ আগ্রাসনের’ জবাব। ইসরায়েলের হামলার ফলে লেবাননের বহু শহর ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা জারির পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি উপশহরেও হামলা চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলি বাহিনী আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সন্দেহভাজন সামরিক স্থাপনা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান— এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ‘স্থানীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ তারা হাইফা নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় হামলা’ চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাত ৮টার কিছু পরে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি আগত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং বেশিরভাগই গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত সোমবার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর প্রথম আক্রমণের পর লেবানন আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ বলেছে যে, তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার ‘প্রতিশোধ’ নিতে চায়।
ইসরায়েল দ্রুত লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই একই দিনে লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর সব সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘তেহরান এবং বৈরুতে একযোগে হামলা’ শুরু করেছে এবং সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ‘হিজবুল্লাহ এবং হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত করেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত ‘ব্যাপক আকারের হামলা’ চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা সীমান্ত বরাবর অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি স্থানে সেনা মোতায়েন করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন যে তিনি ‘ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ রোধ করার জন্য লেবাননে অতিরিক্ত কৌশলগত অবস্থানগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) অগ্রসর হওয়ার এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন’।
হিজবুল্লাহ মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৩টি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে যে তারা কমপক্ষে পাঁচটি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে তিনটি লেবাননের ভূখণ্ডে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ ব্যবহার করে আঘাত করা হয়।
গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, তারা উত্তর ইসরায়েল এবং গোলান হাইটসের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি এবং লেবাননের সীমান্তের কাছে ইউভালের কাছে একটি ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং রকেট স্যালভো ব্যবহার করেছে।
এ ছাড়াও, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ শহরের ওপর একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, এই হামলাগুলো ‘লেবাননের অনেক শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায়’ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে, বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে, খালি করার সতর্কতার পরে বেশ কয়েকটি ভবন লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর আল-মানার টিভি সম্প্রচারক জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে মঙ্গলবার রাতভর তাদের বৈরুত সদর দফতর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে ঘোষণা করেছে যে, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর আল-নূর রেডিও সম্প্রচারকের কার্যালয়গুলোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
এফএ


















































































































































