ইরানে সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা, একজন সাবেক কর্মকর্তা ও আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকজন ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের বাইরে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনে ইরানে সীমিত সংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম নিরাপদে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন শাসকরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে।
সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পের আলোচনায় বড় আকারের স্থল অভিযান নয়, বরং নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ছোট একটি বিশেষ বাহিনী পাঠানোর ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই প্রতিবেদনটি এমন কিছু বেনামি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যারা প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দলের অংশ নন। তারা এসব আলোচনায় সরাসরি জড়িতও নন।
তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো পথে এগোচ্ছেন— এমন দাবি করার মতো অবস্থানে কেউ নেই।
বিজ্ঞাপন
সর্বজনীন বক্তব্যে ট্রাম্প এখনও ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ মূলত আকাশপথে হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের মাটিতে সেনা পাঠায়, তাহলে সংঘাতের মাত্রা এবং ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের পাল্টা হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও বলেন, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠদের কাছে ইরান নিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির কথা বলেছেন যা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক সম্পর্কের মতো হতে পারে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেয়। পাশাপাশি তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক নীতির শর্ত আরোপ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সপ্তাহে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, স্থলসেনা মোতায়েনের ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিধা নেই।
তিনি বলেন, অন্যান্য প্রেসিডেন্টরা স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও আমি বলি সম্ভবত তাদের প্রয়োজন হবে না, (অথবা) যদি তাদের প্রয়োজন হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জোয়েল রেবার্ন বলেছেন, যদি এমন কোনো লক্ষ্য থাকে যেগুলোকে একেবারে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে কিন্তু বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সেটা সম্ভব নয়, তাহলে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সেনা প্রবেশের কথা চিন্তা করা যায়। আপনি সেনা পাঠাবেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করবেন এবং তারপর বেরিয়ে আসবেন।
কিন্তু রেবার্ন বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্থলসেনা মোতায়েন বা বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড বলতে বেশির ভাগ আমেরিকান যা কল্পনা করেন, তা থেকে অনেকটাই আলাদা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি দেখেননি যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের ইরান প্রোগ্রামের সিনিয়র ডিরেক্টর বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, যদি ইরানের বর্তমান সরকার ভেঙে পড়ে, তাহলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
তালেবলু ইরান সম্পর্কে বলেন, আপনি চান না এটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বাজারে পরিণত হোক।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের ইরান স্ট্র্যাটেজি প্রজেক্টের সিনিয়র ফেলো ও পরিচালক নেট সোয়ানসন বলেন, যদি ইরান মনে করে সে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ জিততে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বিকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে স্থলবাহিনী পাঠাতে বা ইরানি শাসনের বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করতে পারেন। ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসক বিরোধীদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্প অবশ্য এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান তার বিবেচনায় নেই। তার প্রত্যাশা, ইরানে এমন একটি নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য। তিনি ধারণা করছেন, চলমান যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে— যদিও এটি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব লিভিট বলেছেন, ইরানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি আলাদা প্রসঙ্গ। যদিও সেটা এই অভিযানের পরিকল্পনায় ছিল না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজের টম লামাসকে বলেছেন, ইরান মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আরাঘচি বলেন, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারব। এটি তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করেছি।
এফএ








































































































































































































