ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস আজ মোজতবা খামেনেইকে দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তিনি তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হয়েছেন, যিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। এই নির্বাচন চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যে ঘটেছে, যা ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানায় আলজাজিরাসহ আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা) ‘নির্ণায়ক ভোটের’ মাধ্যমে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেইকে নির্বাচিত করে। তিনি ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের তৃতীয় সুপ্রিম লিডার হলেন। প্রথম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (১৯৭৯-১৯৮৯), দ্বিতীয় তার পিতা আলী খামেনেই (১৯৮৯-২০২৬) এবং এখন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন এবং বিভিন্ন সূত্রে তাকে ‘পর্দার আড়ালের ক্ষমতাধর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি কোনো সরকারি পদে না থেকেও প্রভাব বিস্তার করেছেন। এই নির্বাচনকে অনেকে হার্ডলাইনারদের শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন, যারা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সংস্কারের পরিবর্তে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে চান।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার কম্পাউন্ডে যৌথ হামলায় নিহত হন। এই হামলায় একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইরান প্রতিশোধমূলক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের যেকোনো নতুন নেতাকে তার (যুক্তরাষ্ট্রের) অনুমোদন নিতে হবে, অন্যথায় তিনি টিকবেন না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও বলেছেন, যেকোনো নতুন নেতা যিনি ইরানের পুরনো নীতি অব্যাহত রাখবেন, তিনি ‘নির্মূলের লক্ষ্যবস্তু’ হবেন।
বিজ্ঞাপন
এই উত্তরাধিকার ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পিতা-পুত্রের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরকে চিহ্নিত করেছে। যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর রাজতন্ত্র উল্টে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন। মোজতবা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ (হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাসসহ)-এর নেতৃত্বও পাবেন।
যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্ব ইরানের ভবিষ্যৎ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি
এসটি








































































































































































































































