মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে ভয়াবহ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে ভয়াবহ হামলা
গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও সংবাদমাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল দখলদার দেশ ইসরায়েল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন আইআরআইবি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এটি ছিল ‘ইরানি প্রোপাগান্ডা মেশিনের হৃৎপিণ্ডে সরাসরি আঘাত’। খবর আল জাজিরার।


বিজ্ঞাপন


গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও এই সংবাদমাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল দখলদার দেশ ইসরায়েল।

আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানে অবস্থিত আইআরআইবি কমপ্লেক্সে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ফারসি ভাষার অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

আইডিএফের দাবি, আইআরআইবি কেন্দ্রটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির ‘মিথ্যা ও নিপীড়নের যন্ত্রের হৃৎপিণ্ড’। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কয়েক ডজন শক্তিশালী গোলাবারুদ ব্যবহার করে এই ‘যোগাযোগ কেন্দ্র’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের প্রধান পেম্যান জেবেলি জানিয়েছেন, তেহরানে তাদের সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণের একাধিক অংশে সরাসরি আঘাত হেনেছে বোমা। তিনি বলেন, হামলায় স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়। ইরানকে পরমাণু গবেষণা এবং কর্মসূচি বন্ধ করতে বার বার সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারপরেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করেনি ইরান। ইরানের অনমনীয় মনোভাবে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দুই দেশের এমন টানাপোড়েন রোধে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়। কিন্তু কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডেও বৈঠকে বসেছিল দেশ দুটি। সেই বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। তারপরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তা হলে এর ফল ভুগতে হবে। সেই হুঁশিয়ারির মধ্যেই গত শনিবার ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এছাড়া নিহত হন সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও।

দুই দেশের হামলার জবাব দিচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এছাড়া ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়ছে ইরান। এতে অনেক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ চাপা পড়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

টাইমলাইন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর