যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু পর আজ মঙ্গলবার ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হবে, যেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধ ও বোমারু বিমান অংশ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই যুদ্ধে ইরান মারাত্মকভাবে পরাজিত হতে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
ইরানের হামলার মাত্রা কমে এসেছে দাবি করে হেগসেথ আরও বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান তার সক্ষমতার তুলনায় সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।’
যুদ্ধ কতদিন চলবে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই যুদ্ধ অন্তহীন বা দীর্ঘস্থায়ী নয়। এটি এখন শুরুর দিকে না কি শেষের দিকে- এটি প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার কাজ নয়।’
এর আগে গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।’ তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি তিনি।
এদিকে ইরানে বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে পেন্টাগন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সতর্কতা আর কোনও দেশ গ্রহণ করে না। এ ধরনের অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান বড় ভুল করেছে। কারণ তাদের এই আচরণের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলো উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করা’।
একই সংবাদ সম্মেলনে চলমান সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের প্রথম ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজারেরও বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে এবং ৫০ টিরও বেশি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
কেইন আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রবণতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
মার্কিন বাহিনী এই যুদ্ধে তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে কেইন জানান, এই অভিযানের প্রধান তিন লক্ষ্য হচ্ছে- মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালানো ও দুর্বল করা, যাতে তার সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং ইরান যেন আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
এসময় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জেনারেল ড্যান কেইন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু
এমএইচআর







































































































































































































































