যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গণেও। অস্থির এই অবস্থায় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে ইরানকে যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্রেই।
ইরানে ইতিমধ্যে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “এই হামলা ও নিষ্ঠুরতার পর এই মুহূর্তে আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি না।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরানের জাতীয় দল গত বছরের মার্চেই তাদের ইতিহাসে সপ্তম বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। টানা চতুর্থবারের মতোও তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। ড্র অনুযায়ী গ্রুপ জি তে ইরান খেলবে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। তাদের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বড় একটি ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায় বসবাস করছে। তাদের একটি বড় অংশ বিপ্লবে উৎখাত হওয়া পাহলভি রাজবংশের সমর্থক ছিল।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আপাতত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেন, “আমরা একটি বৈঠক করেছি। এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় হয়নি। বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতির ওপর আমরা নজর রাখছি।” ফিফার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট থেকে সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানো নিয়ে এখনো ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক ১০০ দিন আগে এই পরিস্থিতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার খবরও এসেছে।
বিজ্ঞাপন
ফিফার নিয়মে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া কোনো দলের বয়কটের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই। ফিফার একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান না খেললে তাদের বদলে অন্য কোনো দলকে নেওয়ার জন্য বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিয়মের ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, “অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতির কারণে কোনো সদস্য দেশ সরে দাঁড়ালে ফিফা নিজস্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”
অর্থাৎ কোনো দল সরে গেলে বা নিষিদ্ধ হলে ফিফা চাইলে অন্য একটি দেশকে তাদের জায়গায় সুযোগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান না খেললে এশিয়ার আরেকটি দল সুযোগ পেতে পারে। এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে এশিয়া থেকে আটটি দল জায়গা নিশ্চিত করেছে। আরও একটি দল বাড়তে পারে, যদি আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে ইরাক বলিভিয়া বা সুরিনামের বিপক্ষে জয় পায়। ম্যাচটি হওয়ার কথা ৩১ মার্চ, মেক্সিকোর মনতেরেতে।
অলিম্পিক গেমসে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কারণে বয়কট হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮০ সালে মস্কো এবং ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে। তবে বিশ্বকাপে এখনো তেমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। ১৯৫০ বিশ্বকাপে কয়েকটি দল যোগ্যতা অর্জন করেও অংশ নেয়নি। তুরস্ক আর্থিক সমস্যার কথা জানায়, আর স্কটল্যান্ড ঘোষণা করেছিল তারা ব্রিটিশ হোম চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে পারলে তবেই যাবে। শেষ পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় হওয়ায় বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।
আরেকটি বড় উদাহরণ ১৯৯২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। যুগোস্লাভিয়া যোগ্যতা অর্জন করলেও বলকান অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়। শেষ মুহূর্তে তাদের জায়গায় সুযোগ পায় ডেনমার্ক এবং আশ্চর্যজনকভাবে সেই দলই পরে শিরোপা জেতে। সম্প্রতি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দলকে সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে ফিফা ও উয়েফা।






































































































































