ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছয় বছর আগে করোনা মহামারির পর তেলের দামের এত বড় উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এই প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল।
বিজ্ঞাপন
রবিবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ছুঁয়েছে। খবর আল জাজিরার।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন মূল্যবৃদ্ধিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হওয়ার পর স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এমন দামকে সামান্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাববে কেবল বোকা মানুষ।’
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও জ্বালানি দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে ‘তুচ্ছ করে’ দেখিয়েছেন। রবিবার সিবিএসের ফেস দ্যা ন্যাশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পেট্রোলের দাম বাড়লেও তা হবে সাময়িক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ওপেকভুক্ত তিন দেশ ইরান, আরব আমিরাত এবং কুয়েত তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের জ্বালানি স্থাপনায় একাধিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।
শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তেহরান ও আলবোরজ প্রদেশে চারটি তেল সংরক্ষণাগার ও একটি তেল পরিবহন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিববার ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘এই খেলা’ চালিয়ে গেলে তারা গোটা অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
আইএমএফ’র হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম যদি স্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ।
শুক্রবার ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই উপসাগরীয় অঞ্চলের সব উৎপাদক দেশ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
এমআর


























































































































































































































