ইসরায়েল, কাতার, বাহারাইনের পর মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইতোমধ্যে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর।
অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। তবে বিস্ফোরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, আবুধাবিতে ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত আমিরাতের সামরিক বাহিনী। তবে বিস্ফোরণে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা- ডব্লিউএএম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই আক্রমণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে’।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে কুয়েতেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
এরআগে তেহরানসহ কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেন ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর এবং বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইরান।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই মানামাতেই যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশজুড়ে এই নৌবহর কাজ করে।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাহরাইন নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে দেশটির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (৫ম ফ্লিট) সার্ভিস সেন্টার ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে’। তবে এই হামলা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে শান্ত থাকার ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরও বলেছে, ‘পূর্ব-অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুসারে হুমকি শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই মোকাবেলা করা হয়েছিল এবং কাতারি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছিল’।
তবে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরান থেকে ছোড়া সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই রাজধানী দোহায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইতোমধ্যেই কাতার এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে। একইসঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ওই দেশগুলোতে বসবাসকারী আমেরিকান নাগরিকদেরও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই দূতাবাসগুলো দুটি পৃথক বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব আমেরিকান নাগরিককেও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি— কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় তেহরান। গত বছরের জুনেও মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান।
প্রসঙ্গত, ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল— যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হবে। এরমধ্যেই শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে যৌথভাবে তেহরানসহ ৬ শহরে হামলা শুরু করে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর

















