মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভিডিও ধারণ এবং ইরানপন্থী পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে একজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ ছয় প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বাহরাইন সংবাদ সংস্থা এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতার বাংলাদেশি যুবকের নাম মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর। অন্য পাঁচজন ব্যক্তি পাকিস্তানি নাগরিক— আফজাল খান, মোহাম্মদ মোয়াজ আকবর, আহমেদ মমতাজ, আরসলান আলী সাজ্জাদ এবং আব্দুল রহমান আব্দুল সাত্তার।
বাহারাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক ও ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা অধিদপ্তরের তদন্তের পর এই অভিযান চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজনরা ‘বিভ্রান্তিকর’ ভিডিও এবং পোস্টের মাধ্যমে ইরানের প্রতি সহানুভূতি এবং সমর্থন প্রকাশ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছিল।
কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, আটক ব্যক্তিরা বেশ কয়েকটি স্থানে হামলার দৃশ্য ধারণ করেছে এবং ফুটেজটি অনলাইনে প্রচার করেছে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং তাদের মামলাগুলো পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মুলত, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে উস্কানিমূলক বা প্রদাহজনক তথ্যের প্রচার রোধে নজরদারি জোরদার করেছে।
কর্মকর্তারা দেশটির নাগরিক এবং প্রবাসী উভয়কেই সতর্ক থাকার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন, সংঘাত এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত ভিডিও, ছবি বা তথ্য অননুমোদিত প্রকাশনা বা শেয়ার করার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছেন।
এরআগে ইরানের হামলার ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বিভিন্ন দেশে নাগরিকসহ ৩১৩ জনকে গ্রেফতার করে কাতার কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও কুয়েত কর্তৃপক্ষও গত ৭ মার্চ দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
অন্যদিকে সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করা বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য পুনরায় প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বাসিন্দাদের মাঝে খুদে বার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরবও।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান।
এমএইচআর







































































































































































































































