ইরানের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত ছয়টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। এরপর থেকেই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহনের এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশ্বব্যাপী গ্যাস ও তেলের দাম বেড়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেল-গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়ুক, তার কাছে এখন ইরানের সামরিক অভিযানই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্বালানি গ্যাসের দামবৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ নিয়ে একেবারেই চিন্তা করছি না। অভিযান শেষ হলে দাম দ্রুতই কমে যাবে। তাই গ্যাসের দাম যদি বাড়ে তো বাড়ুক। কারণ, এই সামরিক অভিযান তেলের দাম সামান্য বাড়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেই বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরবে এবং শিগগিরই তা ঘটবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরান কোন নৌবাহিনী নেই, আপনি জানেন যে তাদের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি খুব কাছ থেকে হরমুজ পর্যবেক্ষণ করছি।’
এদিকে ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতে খুব দ্রুত অভিযান শেষ করার কথা বললেও এখন তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম আরও বাড়লে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্পের দলের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। হোয়াইট হাউসেও এ নিয়ে বেশ অস্থিরতা চলছে।
বিজ্ঞাপন
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস ও জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইতিমধ্যেই গ্যাস কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুজি ওয়াইলস অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সতর্ক করেছেন যে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে নির্বাচনে তার ফল ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২৭ সেন্ট বেড়ে ৩ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন
এমএইচআর































































































































































































