যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা করছে এবং আরব দেশগুলোরকেও এই যুদ্ধে টানতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশলের কারণই চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা হ্রাসের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলেও জানায় মস্কো।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রুশ মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু আরব দেশের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরানকে উস্কে দিয়েছে, যার ফলে মানবিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার জন্য রাশিয়ান পক্ষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটা করে, তারা নিজেদের স্বার্থে আরবদের যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে।’
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার একমাত্র উপায় হল ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করা, কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না’।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার একটি লক্ষ্য হলো, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
তিনি আরো জানান, ইউক্রেন সংকট, তথ্য নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল হুমকি নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রদূতদের এক গোলটেবিল বৈঠকে বোঝা গেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে’।
এরআগে গত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চারটি আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রের নেতাদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি এই অঞ্চল জুড়ে তেল অবকাঠামোতে তেহরানের হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য ইরানের সাথে মস্কোর সম্পর্ক ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, এরআগে শনিবার সকাল থেকে যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের ৬ শহরে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহারাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। এ নিয়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর

















































































































































































































































