কৃষি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৫৩ কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২২, ০৭:১৫ পিএম
কৃষি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৫৩ কোটি টাকা
ফাইল ছবি

২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে (কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই তথ্য তুলে ধরেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সারের দাম। আর এতে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপে পড়েছে সরকার। কৃষককে স্বস্তি দেয়ার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে প্রস্তাবিত বাজেটে দেওয়া হয়েছে বিশেষ অগ্রাধিকার। চলতি বাজেটে সারে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিশ্ববাজারে সারের দাম ৫৮ শতাংশ বাড়ায় তা ছাড়িয়ে যায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু সারে ভর্তুকি রাখা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সকলের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ আমাদের সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সরকারের মৎস্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং চাষি ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক ও লাগসই কারিগরি পরিষেবা প্রদানের ফলে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৬.২১ লক্ষ মেট্রিকটন, যা ২০০৯-২০১০ সালের মোট উৎপাদনের চেয়ে ৫৯.৪০ শতাংশ বেশি।

Budget-3জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য় ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থানে। এছাড়া বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১ম এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ ও এশিয়ার মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। বিশেষ সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়ান্স ও ফিনফিস উৎপাদনে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৮ম ও ১২তম স্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইলিশ মাছের জন্য ভৌগোলিক নিবন্ধন সনদ (জিআই সনদ) পেয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ইলিশ অধিকতর সমাদৃত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন এবং মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা হিলশা ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট একশন প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি। এর অধীনে প্রজনন মৌসুমে সমুদ্রে ৬৫ দিন সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধকরণ এবং জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান, জাটকা সংরক্ষণে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকরণ এবং জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি।

২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২.৯৯ লক্ষ মেট্রিক টন এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৬৫ লক্ষ মেট্রিক টনে। আমাদের প্রণীত ‘মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২০’ এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রপ্তানি বাজারের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য চাষের দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে (কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) সার্বিক উন্নয়নের বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা প্রস্তাব করছি যা বিগত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা ছিল।

ডব্লিউএইচ/এমআর

টাইমলাইন