২০০৬ সালে যখন জার্মানির মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন কেবলই এক উদীয়মান তরুণ। দুই দশক পর, ২০২৬ সালেও তিনি মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সেই একই চেনা ক্ষুধায়। তিনি আর কেউ নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আজ মাঠে নেমে বল জালে জড়ানোর সাথে সাথেই ফুটবলের ইতিহাসের পাতা ওলট-পালট করে দিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন সিআরসেভেন। টানা তো দূরের কথা, ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার নজিরই নেই আর কোনো ফুটবলারের। রোনালদোর পর টানা না হলেও পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি আছে কেবল তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির।
কিন্তু আজ সবাইকে ছাড়িয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোর এই অতিমানবীয় যাত্রার শুরুটা হয়েছিল দুই দশক আগে। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল দিয়ে খাতা খুলেছিলেন তিনি, যা এসেছিল ইরানের বিপক্ষে। এরপর ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি করে গোল করেন এই ফরওয়ার্ড।
তবে বিশ্বকাপের আসর হিসেবে রোনালদোর জন্য সবচেয়ে স্মৃতিময় হয়ে আছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ। সেবার স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকসহ মোট চারটি গোল করেছিলেন তিনি, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজীবন দাগ কেটে থাকবে।
এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তার পা থেকে আসে একটি গোল।আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা ছিল আটটি। আজ চলতি বিশ্বকাপে নিজের নবম গোলটি পাওয়ার পাশাপাশি তিনি পূর্ণ করলেন টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোলের অনন্য এক বৃত্ত।
এই একটি গোল শুধু পর্তুগালকেই আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়নি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বসিয়ে দিল ফুটবল ইতিহাসের এমন এক রাজকীয় সিংহাসনে, যেখানে এর আগে আর কোনো ফুটবলার পা রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারেনি।
























































































































