সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধি কাতারের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধি কাতারের

২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের নজর কাড়েছিল কাতার। এবার সেই দেশটি ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আরেকটি পরিচয় তুলে ধরতে প্রস্তুত। স্বাগতিকের বিশেষ সুবিধা নয়, কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে অর্জিত যোগ্যতায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ফলে কাতারের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের নতুন মঞ্চ।

কাতারের ফুটবল যাত্রায় ২০২২ বিশ্বকাপ ছিল একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছিল দলটি। যদিও ফলাফল তাদের পক্ষে ছিল না, তবে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের পথচলায় বড় সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নতুন অধ্যায়ে লোপেতেগির কাতার

২০২৫ সালের মে মাসে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগি। ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেন।

স্পেন জাতীয় দল, রিয়াল মাদ্রিদ, সেভিয়া, উলভারহ্যাম্পটন ও ওয়েস্ট হ্যামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেভিয়ার হয়ে ইউরোপা লিগ জয়ের কৃতিত্বও আছে। কৌশলগত পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের জন্য পরিচিত লোপেতেগির হাত ধরে কাতার এখন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি দল হয়ে উঠতে চায়।

আক্রমণের প্রধান অস্ত্র আকরাম আফিফ


বিজ্ঞাপন


বর্তমান কাতার দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম আকরাম আফিফ। গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীল আক্রমণভাগের জন্য তিনি এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিত।

২০১৯ এশিয়ান কাপে রেকর্ডসংখ্যক ১০টি অ্যাসিস্ট করে কাতারকে প্রথম শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৩ এশিয়ান কাপেও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের সবচেয়ে বড় ভরসা ধরা হচ্ছে আফিফকেই।

বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপ

কাতারের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এবার তারা স্বাগতিক হিসেবে নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপে উঠেছে। এশিয়ান অঞ্চলের চূড়ান্ত বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দারুণ লড়াই করে দলটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় কাতারের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। বুলায়েম খুখি ও পেদ্রো মিগুয়েলের গোল সেই ম্যাচে ইতিহাস গড়ে দেয়। এটাই প্রথমবার, যখন কাতার নিয়মিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিল।

বিশ্বকাপে কাতারের ইতিহাস

 কনফেডারেশন: এএফসি
 ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৫৫
 প্রথম বিশ্বকাপ: ২০২২
 বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ২ বার (২০২২ ও ২০২৬)
 সেরা ফল: গ্রুপ পর্ব
 আয়োজক: ২০২২ বিশ্বকাপ
 বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ: ৩
 জয়: ০
 ড্র: ০
 হার: ৩
 গোল করেছে: ১
 গোল হজম: ৭

প্রথম বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্ত

২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আল বায়ত স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটে কাতারের। উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে হারলেও সেদিনই আসে কাতারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। মোহাম্মদ মুনতারি ৭৮তম মিনিটে হেড থেকে গোল করে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড গড়েন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা কাতারের জন্য ছিল অমূল্য।

২০২২-এর আক্ষেপ ২০২৬-এ  ঘোচাতে মরিয়া কাতার

বিশ্বকাপে এখনো কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি কাতার। ২০২২ আসরে তিনটি ম্যাচই হারতে হয়েছে তাদের। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কাতারের সবচেয়ে বড় জয়ের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কাতার। চার বছর পর তারা আবার আলোচনায়, তবে এবার মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর প্রত্যয়ে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে গড়া এই দলটির লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর