বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বেশ কিছু বড় তারকাকে এই মেগা আসর দেখতে হবে ঘরে বসে টেলিভিশনের পর্দায়। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্দা উঠছে ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপের। তবে চোটের অভিশাপ কিংবা ফর্মহীনতার কারণে কোচের গুড-বুক থেকে ছিটকে গিয়ে এবারের আসরে দর্শক সারিতে চলে গেছেন অনেক চেনা মুখ।
১. ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড (বয়স: ২৭, পজিশন: ডিফেন্ডার, দেশ: ইংল্যান্ড)
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং ফুলব্যাক হিসেবে বিবেচিত সাবেক লিভারপুল রাইট-ব্যাক আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ঠিক ১২ মাস আগে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম মৌসুমটি চোট আর ফর্মহীনতায় কেটেছে তার। ফলে ইংল্যান্ডের নতুন ম্যানেজার থমাস টুখেলের মন গলাতে পারেননি তিনি। রাইট-ব্যাক পজিশনে টুখেল দলে নিয়েছেন রিস জেমস, জেড স্পেন্স এবং তিনো লিভরামেন্তোকে।
২. কোল পামার (বয়স: ২৪, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ইংল্যান্ড)
চেলসির এই তারকা কুঁচকির চোটের কারণে গত মৌসুমের প্রায় তিন মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। ফলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি, গোল করেছেন মাত্র ১১টি। তবে বড় ম্যাচে পারফর্ম করার দারুণ ট্র্যাক রেকর্ড (ইউরো ২০২৪ ফাইনাল এবং ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে গোল) থাকার পরও তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ায় ফুটবল ভক্তরা বেশ চমকে গেছেন।
৩. ফিল ফোডেন (বয়স: ২৬, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ইংল্যান্ড)
বিজ্ঞাপন
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠ কাঁপালেও ইংল্যান্ডের জার্সিতে ফোডেনের পারফরম্যান্স বরাবরই একটু ম্লান (৪৯ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল)। তার ওপর পেপ গার্দিওলার সিটিতেও এই মৌসুমে শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। ক্লাব ফুটবলের বাজে ফর্ম এবং জাতীয় দলের হয়ে আগের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণে থমাস টুখেলের জন্য ফোডেনকে স্কোয়াডের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তটি বেশ সহজই ছিল।
৪. রদ্রিগো (বয়স: ২৫, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ব্রাজিল)
রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার তার সাবেক ক্লাব কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে নিশ্চিতভাবেই জায়গা পেতেন। কিন্তু গত মার্চে হাঁটুর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় ২০২৬-২৭ মৌসুমের বড় একটা সময় পর্যন্ত তিনি মাঠের বাইরে চলে গেছেন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামা ব্রাজিলের জন্য এটি মস্ত বড় ধাক্কা।
৫. এস্তেভাও (বয়স: ১৯, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ব্রাজিল)
গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে পালমেইরাসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন চেলসির এই তরুণ উইঙ্গার। আশা করা হচ্ছিল, এবারের বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম ‘ব্রেকথ্রু স্টার’ হবেন। কিন্তু গত মার্চে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার পর চোটের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে আনচেলত্তির বিশ্বকাপ পরিকল্পনা থেকে ছিটকে যেতে হয় ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালককে।
৬. জোয়াও পেদ্রো (বয়স: ২৪, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ব্রাজিল)
গত গ্রীষ্মে ব্রাইটন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ২০টি গোল করে চমৎকার একটি মৌসুম কাটিয়েছেন পেদ্রো। তবে সেলেসাওদের হয়ে ৮ ম্যাচ খেলে এখনো কোনো গোল করতে না পারায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে উপেক্ষা করেছেন। পেদ্রোর জায়গায় ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো এবং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগে।
৭. হুগো একিতিকে (বয়স: ২৩, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: ফ্রান্স)
গত গ্রীষ্মে ৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে লিভারপুলে এসে ৪৫ ম্যাচে ১৭ গোল করে ফরাসি দলে নিজের জায়গা পাকা করেছিলেন একিতিকে। কোচ দিদিয়ের দেশমের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার থাকাটা নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু গত এপ্রিলে গোড়ালির মারাত্মক ইনজুরিতে পড়ে তার পুরো মৌসুম শেষ হয়ে যায়। ২০২৭ সালের শুরুর দিকের আগে তার মাঠে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।
৮. লেনার্ট কার্ল (বয়স: ১৮, পজিশন: ফরোয়ার্ড, দেশ: জার্মানি)
বায়ার্ন মিউনিখের এই টিনএজারকে নিয়ে জার্মানি বড় স্বপ্ন দেখছিল। বায়ার্নের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই ৯টি গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট করে ইনজুরি থেকে মাত্রই সুস্থ হয়ে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনায় জার্মানির বেস ক্যাম্পে অনুশীলনের সময় আবারও পেশির চোটের শিকার হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই তরুণ। চোটের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যেই তিনি মিউনিখে ফিরে গেছেন।
চোট আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই ফুটবলারদের হয়তো দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে, তবে তাদের এই অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টে অন্য কোনো তরুণ বা ব্যাক-আপ খেলোয়াড়ের জন্য লাইমলাইটে আসার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।























































































