শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘ই’ গ্রুপে জার্মানির ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন, আছে চ্যালেঞ্জও

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ই’ গ্রুপে জার্মানির ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন, আছে চ্যালেঞ্জও

সামনেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮টি দলের এই সুবিশাল টুর্নামেন্টের প্রতিটা গ্রুপের লড়াই ঘিরেই জমছে উত্তেজনা। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে কোন ৩২ দল যাবে পরের রাউন্ডে, লড়াই করবে শিরোপার জন্য- তার হিসাব-নিকশা মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ৪৮টি দল নিয়ে ১২টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে কিছুটা সহজ গ্রুপ 'গ্রুপ ই'। চার বারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি এই গ্রুপে থাকলেও বাকি তিনটি দল তেমন সমীহ জাগানিয়া নয়। সেগুলো হল- ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও।  

কাগজে-কলমে এই গ্রুপ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে জার্মানি ও ইকুয়েডর স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, ফুটবল মাঠে যেকোনো মুহূর্তে নাটকের জন্ম হতে পারে। চলুন সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ ই-এর দলগুলোর শক্তিমত্তা ও তাদের সম্ভাবনা।


বিজ্ঞাপন


গ্রুপ ই: দলগুলোর খুঁটিনাটি ও বিশ্লেষণ

১. জার্মানি 
ফিফা র‍্যাংকিং: ৯ 
২০০২ থেকে ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা চার আসরে অন্তত সেমিফাইনাল বা তার চেয়ে ভালো করা জার্মানি গত দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এবার তাদের মূল লক্ষ্য সেই ব্যর্থতা ভুলে আবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের চেনা রাজত্ব ফিরে পাওয়া।

শক্তির জায়গা: দলটিতে তারকা খেলোয়াড়ের অভাব নেই। বায়ার্ন মিউনিখের ৭ জন ফুটবলারের এক বিশাল বহর রয়েছে এই স্কোয়াডে; যার মধ্যে আছেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার, জামাল মুসিয়ালা, জশুয়া কিমিখ ও লিওন গোরেটস্কা। বায়ার্নের বাইরে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, আন্তোনিও রুডিগার এবং কাই হাভার্টজের মতো বিশ্বসেরা তারকারা আছেন।

দুর্বলতা ও চমক: করিম আদেইয়েমি, মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন এবং নিকলাস ফুলক্রুগের মতো তারকাদের স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন কোচ। সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতে গ্রুপ পর্বে জার্মানির খেই হারিয়ে ফেলার মানসিকতা তাদের বড় দুশ্চিন্তার জায়গা। এছাড়া রক্ষণেও কিছুটা কমতি রয়েছে চারবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।


বিজ্ঞাপন


যার ওপর নজর থাকবে: ২৩ বছর বয়সী আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তরুণ তুর্কি জার্মানিকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

২. ইকুয়েডর
ফিফা র‍্যাংকিং: ২৩
২০০২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা ইকুয়েডর এ পর্যন্ত মাত্র একবারই (২০০৬ সালে) গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পেরেছিল। তবে বর্তমান দলটির তারকাদের প্রোফাইল দেখলে যে কেউ তাদের সমীহ করতে বাধ্য হবে।

শক্তির জায়গা: দলটির রক্ষণ ও মাঝমাঠ ইউরোপ কাঁপানো তারকায় ঠাসা। চেলসির ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মিডফিল্ডার মোয়েসেস কাইসেডো আছেন মাঝমাঠের দায়িত্বে। রক্ষণে আছেন পিএসজি-র হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো এবং আর্সেনালের পিয়েরো হিনকাপি। এছাড়া ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এনার ভ্যালেন্সিয়া ও চেলসির ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা কেন্ড্রি পায়েজ আক্রমণে ধার বাড়াবেন।

যার ওপর নজর থাকবে: রক্ষণভাগে পাচো দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেও ইকুয়েডরকে তাদের সেরা ছন্দে খেলতে হলে মাঝমাঠে মোয়েসেস কাইসেডো-কে পুরো মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩. আইভরি কোস্ট
ফিফা র‍্যাংকিং: ৩৪ 
২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর গত দুটি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি আইভরি কোস্ট। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে মরিয়া আফ্রিকান এই পরাশক্তি।

শক্তির জায়গা: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ ফরোয়ার্ড আমাদ ডিয়ালো এবং ভিয়ারিয়ালের নিকোলাস পেপে আইভরি কোস্টের আক্রমণের মূল ভরসা। মাঝমাঠ সামলানোর জন্য আছেন ফ্রাঙ্ক কেসি ও ইব্রাহিমা সাঙ্গারের মতো অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা।

দুর্বলতা: ইকুয়েডর ও জার্মানির মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার জন্য স্কোয়াডে যতটুকু গভীরতা প্রয়োজন, আইভরি কোস্টের হয়তো তা কিছুটা কম আছে।

যার ওপর নজর থাকবে: উইঙ্গার আমাদ ডিয়ালো। বল পায়ে তাঁর গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে পারে।

৪. কুরাসাও
ফিফা র‍্যাংকিং: ৮২
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ কুরাসাও এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছে। দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় এদের খেলায় ডাচ ফুটবল ও এরাডিভিসি লিগের স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।

শক্তির জায়গা: স্কোয়াডে কিছু চেনা মুখ রয়েছে, যেমন শেফিল্ড ইউনাইটেডের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার তাহিথ চং (সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খেলোয়াড়) এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্ড্রো বাকুনা। এছাড়া মায়ামি এফসি-র ফরোয়ার্ড জার্গেন লোকাডিয়া এবং পিএসভি-র সাবেক ডিফেন্ডাররা দলটির ভরসা।

দুর্বলতা: প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে খেলতে আসায় অভিজ্ঞতার অভাব এবং প্রথম দুটি ম্যাচই জার্মানি ও ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে হওয়ায় তাদের পথটা অসম্ভব কঠিন।

যার ওপর নজর থাকবে: কিউরাসাও যদি আক্রমণভাগে কোনো সুযোগ তৈরি করতে চায়, তবে তাহিথ চং-কে তার সেরা ফুটবলটা খেলতে হবে।

গ্রুপ ই: ম্যাচ সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী)
১৪ জুন, রাত ১১:০০ টা – জার্মানি বনাম কুরাসাও

১৫ জুন, ভোর ৫:০০ টা – আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর

২০ জুন, রাত b:০০ টা – জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট

২১ জুন, ভোর ৬:০০ টা – ইকুয়েডর বনাম কিউরাসাও

২৫ জুন, রাত ১০:০০ টা – ইকুয়েডর বনাম জার্মানি

২৫ জুন, রাত ১০:০০ টা – কিউরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর