সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ভাঙতে চলেছে যেসব রেকর্ড আর যা ছোঁয়া একেবারেই অসম্ভব

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ভাঙতে চলেছে যেসব রেকর্ড আর যা ছোঁয়া একেবারেই অসম্ভব

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) মাটিতে বসবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম টুর্নামেন্ট হিসেবে এবারই প্রথম ৩২টি দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে; যেখানে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক 'রাউন্ড অব ৩২' বা শেষ বত্রিশের নকআউট পর্ব।

ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার অর্থ হলো খেলোয়াড়, কোচ ও দলগুলোর সামনে নতুন নতুন সব রেকর্ড গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এমন কিছু বিশ্বরেকর্ড তৈরি হয়েছে যা ছোঁয়া অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু এবার ম্যাচের আধিক্য ও আধুনিক ফুটবলের গতির কারণে অনেক বিখ্যাত রেকর্ডই ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে কোন কোন রেকর্ড ভাঙতে চলেছে, আর কোনগুলো অধরাই থেকে যাবে- চলুন দেখে নেওয়া যাক।


বিজ্ঞাপন



বিজ্ঞাপন


বর্তমান রেকর্ডধারী: হেলমুট শ্যন (পশ্চিম জার্মানি) — ১৬টি জয়।

ভেঙে দেওয়ার অপেক্ষায়: দিদিয়ে দেশম (ফ্রান্স)।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে পশ্চিম জার্মানির ডাগআউটে হেলমুট শ্যন যা করেছিলেন, তা এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। তিনি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৫টি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে দলকে ১৯৬৬ সালে রানার্স-আপ, ১৯৭০ সালে তৃতীয় এবং ১৯৭৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তিনিই প্রথম কোচ যিনি একই সাথে ইউরো (১৯৭২) ও বিশ্বকাপ (১৯৭৪) জিতেছিলেন (পরবর্তীতে স্পেনের ভিসেন্তে দেল বস্ক এই কীর্তি ছুঁয়েছিলেন)।

3e4cbb5698fc4e80b4743a309da9dead

কিন্তু এবার ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম এই রেকর্ডটি নিজের করে নিতে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৯টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ১৪টি জয় পেয়েছেন দেশম। এবার গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের গ্রুপটি তুলনামূলক সহজ (নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক)। ফলে কোনো বড় অঘটন না ঘটলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো জিতলেই দেশম হেলমুট শ্যনের ১৬ জয়ের রেকর্ড ভেঙে দেবেন। এমনকি টুর্নামেন্টে দূর পর্যন্ত গেলে তিনি সর্বোচ্চ ম্যাচের রেকর্ডও নিজের করে নেবেন।

খ. এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড

বর্তমান রেকর্ডধারী: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ (১৭২টি গোল)।

ভেঙে দেওয়ার অপেক্ষায়: ২০২৬ বিশ্বকাপ (১০৪টি ম্যাচ)।

কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচে সর্বমোট ১৭২টি গোল হয়েছিল (ম্যাচ প্রতি গড় ২.৬৯)। এর আগে ১৯৯৮ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে ১৭১টি করে গোল হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে দল ও ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রেকর্ডটি স্রেফ উড়ে যাবে।

যদি আমরা তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, ২০২৬ বিশ্বকাপটি ইতিহাসের সবচেয়ে রক্ষণাত্মক বা কম গোলের টুর্নামেন্ট হবে (যেমন ১৯৯০ বিশ্বকাপে ম্যাচ প্রতি গড় ছিল মাত্র ২.২১ গোল), তাহলেও ১০৪টি ম্যাচে সর্বমোট গোলের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৩০টির কাছাকাছি যা বর্তমান রেকর্ডের চেয়ে ৫০টি বেশি! আর যদি কাতার বিশ্বকাপের মতো ম্যাচ প্রতি গড় ২.৬৯ গোল বজায় থাকে, তবে এবার গোল সংখ্যা ২৮০ ছুঁয়ে ফেলবে! অর্থাৎ, যেকোনো হিসাব অনুসারেই এবার বিশ্বকাপে গোলের ডাবল সেঞ্চুরি এবং এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

গ. চল্লিশোর্ধ (৪০+) খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ

বর্তমান রেকর্ড: ফুটবল ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র ৭ জন খেলোয়াড় ৪০ বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলেছেন।

ভেঙে দেওয়ার অপেক্ষায়: ২০২৬ সালের প্রবীণ তারকারা।

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে মাত্র ৭ জন চল্লিশোর্ধ খেলোয়াড়কে আমরা ভিন্ন ভিন্ন আসরে খেলতে দেখেছি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। এবার ফুটবল বিশ্বের একঝাঁক কিংবদন্তি প্রবীণ তারকা মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন।

AP26131781003576-1779196260

এই তালিকায় আছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৪১), জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার (৪০), বসনিয়ার এডিন জেকো (৪০), স্কটল্যান্ডের ক্রেইগ গর্ডন (৪৩), ক্রোয়েশিয়ার লুকা মড্রিচ (৪০), উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরা (৪০) এবং মেক্সিকোর গুইলারমো ওচোয়া (৪০)। এই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে যদি মাত্র দুজন খেলোয়াড়ও এবারের বিশ্বকাপে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামেন, তবে একক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৪০+ খেলোয়াড় খেলার নতুন রেকর্ড তৈরি হবে।

২. যেসব রেকর্ড ভাঙার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে

ক. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড

বর্তমান রেকর্ডধারী: মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি) — ১৬টি গোল।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: লিওনেল মেসি (১৩ গোল) ও কিলিয়ান এমবাপে (১২ গোল)।

২০১৪ সালের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের মারাকানায় সেই ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের ম্যাচে ব্রাজিলের রোনালদোর (১৫ গোল) রেকর্ড ভেঙে ১৬ গোলের চূড়ায় বসেছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। গত এক দশক ধরে এই রেকর্ডটি সুরক্ষিত থাকলেও এবার তা হুমকির মুখে।

Miroslav-Klose-scored-a-r-014

আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ১৩ গোল এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ১২ গোল নিয়ে ক্লোসার একদম ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। পর্তুগালের রোনালদো, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন এবং ব্রাজিলের নেইমার ৮টি করে গোল নিয়ে তালিকায় থাকলেও ব্যবধানের কারণে তাদের সম্ভাবনা কিছুটা কম। তবে ২০২২ ফাইনালের সেই দুই নায়ক মেসি ও এমবাপে (যে ম্যাচে এমবাপে হ্যাটট্রিক এবং মেসি জোড়া গোল করেছিলেন) এবার ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। মেসি গ্রুপ পর্বেই ৩৯ বছরে পা দেবেন, অন্যদিকে এমবাপের বয়স মাত্র ২৮। ফলে এবার মেসি ১-২ গোল বেশি করলেও ভবিষ্যতের দিক থেকে এমবাপেই ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে অনেক দূর চলে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

খ. সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) বিজয়ী

বর্তমান রেকর্ডধারী: থমাস মুলার (জার্মানি, ২০১০) — ২০ বছর বয়সে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: লামিন ইয়ামাল (স্পেন) — ১৮ বছর।

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির থমাস মুলার মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫টি গোল করে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বুট ও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৬ বছর পর স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল এই রেকর্ডটি ভেঙে দেওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার।

EVK6JMbVAAEUogu

মাত্র ১৮ বছর বয়সী বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড ইতিমধ্যেই ইউরো ২০২৪ জিতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা ২৪টি গোল করেছেন তিনি। স্পেন যদি টুর্নামেন্টে অনেক দূর যায়, তবে ইয়ামালের সামনে মুলারের রেকর্ড ভাঙার দারুণ সুযোগ থাকবে। তবে ক্লাবের শেষভাগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় স্পেনের প্রথম দুই ম্যাচে তার খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে, যা তার গোল করার সুযোগ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। ইয়ামাল ছাড়াও  ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী এনড্রিকও মুলারের এই রেকর্ডে হানা দিতে পারেন।

গ. সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্ট সেরা) বিজয়ী

বর্তমান রেকর্ডধারী: রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল, ১৯৯৮) — ২১ বছর বয়সে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: লামিন ইয়ামাল, এনড্রিক, দেজিরে দুয়ে, কোবি মেইনু।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে মাত্র ২১ বছর বয়সে ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার রোনালদো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে 'গোল্ডেন বল' জিতেছিলেন। গত কোয়ার্টার সেঞ্চুরি ধরে ২১ বছরের কম বয়সী কোনো খেলোয়াড় এই পুরস্কার ছুঁতে পারেননি। অলিভার কান, জিনেদিন জিদান, লুকা মড্রিচ কিংবা লিওনেল মেসির মতো অভিজ্ঞ ও ত্রিশোর্ধ্ব ফুটবলাররাই সাধারণত এই পুরস্কার জিতে এসেছেন।

GettyImages-1068939628-scaled

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে লামিন ইয়ামাল (স্পেন), এনড্রিক (ব্রাজিল) ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ের মতো তরুণদের সামনে সুযোগ রয়েছে রোনালদোর সেই ২৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার। এছাড়া পিএসজি-র হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা পর্তুগালের জোয়াও নেভেস, ইংল্যান্ডের কোবি মেইনু কিংবা আর্জেন্টিনার নিকো পাজের মতো তরুণ মিডফিল্ডাররাও যদি তাদের দলকে ফাইনালে তুলতে পারেন, তবে সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বলের রেকর্ডটি নতুন করে লেখা হতে পারে।

নিচে এমন কিছু রেকর্ডের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো যা এবার কোনোভাবেই ভাঙার সম্ভাবনা নেই:

১. বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা: 

পেলে (১৭ বছর ২৩৯ দিন)রেকর্ড: 

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।

pele-1670369741960

কেন ভাঙবে না: ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পেলের চেয়ে কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের এবার মাঠে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এই রেকর্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি এসেও যে খেলোয়াড়টি ভাগ্যের পরিহাসে ছিটকে যাচ্ছেন, তিনি হলেন স্বাগতিক মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।  

আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো যখন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে, সেদিন মোরার বয়স হবে ঠিক ১৭ বছর ২৪০ দিন! অর্থাৎ, মোরা যদি সেই ম্যাচে গোলও করেন, তবুও তিনি পেলের চেয়ে মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবেন এবং রেকর্ডটি ভাঙতে পারবেন না। আধুনিক ফুটবলে এত কম বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এবং বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে গোল করার মতো অলৌকিক প্রতিভা হুট করে হাজির না হলে পেলের এই রেকর্ড আজীবন অক্ষতই থেকে যাবে।

২. এক ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ গোল ও সবচেয়ে বড় জয়:

হাঙ্গেরি ১০-১ এল সালভাদর (১৯৮২)রেকর্ড: 

১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে এল সালভাদরকে ১০-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল হাঙ্গেরি। বিশ্বকাপের প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এটিই একমাত্র ম্যাচ যেখানে কোনো দল এক ম্যাচে দুই অঙ্কের ঘরে (১০টি) গোল করতে পেরেছিল।

কেন ভাঙবে না: কাতার বিশ্বকাপে কোস্টা রিকার বিপক্ষে স্পেনের ৭-০ গোলের জয় কিংবা সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে মেক্সিকোর ৫-১ গোলের জয় দেখায় যে বড় দলগুলো কতটা নির্মম হতে পারে। তাছাড়া এবার ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট হওয়ায় কাগজে-কলমে দুর্বল দলের সংখ্যা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও আধুনিক ফুটবলের রক্ষণাত্মক কৌশল, হাই-প্রেসিং এবং ট্যাকটিক্যাল উন্নতির কারণে যেকোনো দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ১০টি গোল করা প্রায় অসম্ভব। এখনকার সময়ে দুর্বল দলগুলোও রক্ষণভাগ নিরেট রাখতে কঠোর পরিশ্রম করে, যার ফলে গোলবন্যার ব্যবধান ৭ বা ৮ গোলের ওপরে যাওয়া আধুনিক ফুটবলে দেখা যায় না বললেই চলে। একইভাবে ১৯৫৪ সালের অস্ট্রিয়া বনাম সুইজারল্যান্ডের ৭-৫ গোলের (সর্বমোট ১২ গোল) ম্যাচটির রেকর্ডও এবার ভাঙা অবাস্তব।

৩. এক আসরে একক খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল:

জুস্ত ফন্টেইন (১৩ গোল, ১৯৫৮)রেকর্ড:

১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জুস্ত ফন্টেইন একাই করেছিলেন ১৩টি গোল।

কেন ভাঙবে না: বর্তমান যুগে যেখানে একজন স্ট্রাইকারের পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৫ বা ৬টি গোল করতেই ঘাম ছুটে যায় (গত আসরে এমবাপ্পে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন), সেখানে এক আসরে ১৩ গোল করা স্রেফ কল্পনাতীত। এবার ম্যাচের সংখ্যা বাড়লেও একটি দল সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে (যদি তারা ফাইনাল বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে)। ৮ ম্যাচে ১৩ গোল করতে হলে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১.৬টি করে গোল করতে হবে, যা বর্তমান বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে করা বর্তমান স্ট্রাইকারদের জন্য অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

৪. বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়: 

এসাম এল-হাদারি (৪৫ বছর ১৬১ দিন, ২০১৮)

২০১৮ বিশ্বকাপে মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে খেলে ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন।

কেন ভাঙবে না: এবার বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৪১), লুকা মড্রিচ (৪০) কিংবা মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়া (৪০)- সবাই প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়তে চললেও এল-হাদারির ৪৫ বছরের রেকর্ড থেকে তারা এখনো অনেক দূরে। ওচোয়া বা রোনালদো যদি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলেন, তবেই কেবল এই রেকর্ড ভাঙার কথা চিন্তা করা সম্ভব, যা ২০২৬ সালের আসরে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর