শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তুরস্কের চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তায় ভরা গ্রুপ ‘ডি’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তুরস্কের চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তায় ভরা গ্রুপ ‘ডি’

ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব। আর কদিন পরেই মাঠে গড়াতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। পূর্বের তুলনায় এবার বিশ্বকাপের উত্তেজনা একদম ভিন্ন, কারণ এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে ১২টি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এর মধ্যে অন্যতম একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও রোমাঞ্চকর গ্রুপ হলো 'গ্রুপ ডি'।

সহ-স্বাগতিক হিসেবে এই গ্রুপে খেলবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের পথটা মোটেও সহজ হবে না; কারণ গ্রুপে তাদের সঙ্গী তুরস্ক, প্যারাগুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া। কাগজে-কলমে এই গ্রুপে কোনো প্রথাগত 'লড়াকু পরাশক্তি' না থাকলেও, শক্তির ভারসাম্যের কারণে এটি হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিশ্চয়তায় ভরা গ্রুপগুলোর একটি।


বিজ্ঞাপন


১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই গ্রুপের লড়াই। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই গ্রুপের দলগুলোর শক্তিমত্তা এবং ভেতরের খবর।

গ্রুপ ডি: 
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 
সহ-স্বাগতিক এবং এই গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে এবার মার্কিনিদের ওপর প্রত্যাশার চাপটা একটু ভিন্ন। ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থনের পাশাপাশি দলটির ডাগআউটে আছেন মাউরিসিও পচেত্তিনোর মতো হাইপ্রোফাইল কোচ। সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান স্কোয়াড নিয়ে নামছে ইউএসএ।

শক্তির জায়গা: ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ এখনও এই দলের মূল মুখ। আক্রমণভাগে ফোলারিন বালোগান এবং উইংয়ে টিমোথি ওয়েয়াহ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। মাঝমাঠে ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং টাইলার অ্যাডামসের মতো ইউরোপীয় লিগ মাতানো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা আছেন।

দুর্বলতা: পুলিসিচের সাম্প্রতিক এসি মিলান ফর্ম কিছুটা ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গেছে। রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে পচেত্তিনোকে 'ব্যাক থ্রি' (তিন ডিফেন্ডার) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া মাঝমাঠে গভীরতার অভাব রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


লক্ষ্য: ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এবার ঘরের মাঠে অন্তত নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করা তাদের নূন্যতম লক্ষ্য।

২. তুরস্ক 
২০০২ সালের বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্যভাবে তৃতীয় হওয়ার পর, এটি তুরস্কের মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। তবে তুরস্কের এই নতুন দলটিকে নিয়ে এবার ফুটবল মহলে তুমুল উত্তেজনা কাজ করছে, কারণ এটিকে বলা হচ্ছে তুরস্কের ফুটবলের 'স্বর্ণালী প্রজন্ম'।

শক্তির জায়গা: এই দলের মাস্টারমাইন্ড রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ প্লেমেকার আর্ডা গুলের। পাসিং, ভিশন আর বাঁ পায়ের জাদুতে তিনি ইউরোপের অন্যতম সেরা উদীয়মান তারকা। তাঁর সাথে আছেন হাকান চালহানোগলু এবং কেনান ইয়িলদিজের মতো প্রতিভাবান অ্যাটাকাররা। কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার অধীনে এই দল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে।

দুর্বলতা: মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ দুর্দান্ত হলেও তুরস্কের এখনও একজন বিশ্বমানের 'নাম্বার নাইন' বা স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের রক্ষণভাগও কিছুটা নড়বড়ে।

৩. প্যারাগুয়ে
২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে লাতিন আমেরিকার এই দলটি। আর তারা ফিরেছে তাদের সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী রূপ নিয়ে- যাদের রক্ষণভাগ ভাঙা অসম্ভব!

শক্তির জায়গা: প্যারাগুয়ের মূল শক্তি তাদের জমাট ডিফেন্স। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা মাত্র ১০টি গোল হজম করেছে (যার চেয়ে কম গোল খেয়েছে কেবল ইকুয়েডর)। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ গুস্তাভো গোমেজ ও জুনিয়র আলোনসো। আক্রমণভাগে তাদের মূল বাজি ২২ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার হুলিও এনসিসো।

দুর্বলতা: প্যারাগুয়ের ডিফেন্স যতটাই শক্ত, আক্রমণভাগ ততটাই ভোঁতা। বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন গোল করেছে তারা। গোল খরা কাটাতে না পারলে এই গ্রুপে তাদের ভুগতে হবে।

৪. অস্ট্রেলিয়া 
কাগজে-কলমে 'সকারুজ' খ্যাত অস্ট্রেলিয়াকে এই গ্রুপের আন্ডারডগ বা দুর্বল দল মনে হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নেওয়া যে কতটা বিপজ্জনক, তা চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপেই প্রমাণিত হয়েছে।

শক্তির জায়গা: অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান তার টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দলে আছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং জর্ডান বসের মতো একঝাঁক নতুন প্রতিভা। তারকাখ্যাতি না থাকলেও শারীরিক ফুটবল, গোছানো রক্ষণ এবং কঠোর শৃঙ্খলাই দলটির মূল শক্তি।

দুর্বলতা: বড় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো 'এক্স-ফ্যাক্টর' বা বিশ্বমানের তারকা স্ট্রাইকার এই দলে নেই।

গ্রুপের সেরা ম্যাচ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম তুরস্ক (২৫ জুন, সোফাই স্টেডিয়াম)

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচদিনের এই লড়াইটিই সম্ভবত নির্ধারণ করবে গ্রুপ ডি-এর ভাগ্য। ধারণা করা হচ্ছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী সমীকরণ থাকবে সামনে। মাঠের লড়াইয়ে তুরস্কের প্রধান ক্রিয়েটর আর্ডা গুলেরকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের টাইলার অ্যাডামসের ওপর। গুলের যদি ডানা মেলার সুযোগ পান, তবে স্বাগতিকদের কপালে দুঃখ আছে!

যাদের ওপর থাকবে বাড়তি নজর
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (যুক্তরাষ্ট্র): স্বাগতিক দেশের অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাশার সবটুকু চাপ থাকবে তার ওপর। একক নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে।

আর্ডা গুলের (তুরস্ক): বিশ্বমঞ্চে একজন গ্লোবাল সুপারস্টার হওয়ার সব রসদ রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ জাদুকরের পায়ে রয়েছে। উত্তর আমেরিকার মাঠে তার বাঁ পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

হুলিও এনসিসো (প্যারাগুয়ে): প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক কৌশলের মাঝে এনসিসো হলেন সেই স্ফুলিঙ্গ, যিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণ এক নিমেষে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন।

গ্রুপ ডি: ম্যাচ সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী)
১৩ জুন, ভোর ৭:০০ টা – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (সোফাই স্টেডিয়াম)

১৩ জুন, সকাল ১০:০০ টা – অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক (বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার)

২০ জুন, রাত ১:০০ টা – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া (লুমেন ফিল্ড, সিয়াটল)

২০ জুন, সকাল ৯:০০ টা – তুরস্ক বনাম প্যারাগুয়ে (লেভিস স্টেডিয়াম)

২৬ জুন, সকাল ৮:০০ টা – তুরস্ক বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (সোফাই স্টেডিয়াম)

২৬ জুন, সকাল ৮:০০ টা – প্যারাগুয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া (লেভিস স্টেডিয়াম)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর