মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ফ্রান্সের আধিপত্য নাকি সেনেগাল-নরওয়ের গতিঝড়, কার হাতে নকআউট টিকিট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ফ্রান্সের আধিপত্য নাকি সেনেগাল-নরওয়ের গতিঝড়, কার হাতে নকআউট টিকিট

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হতে চলেছে। আর এবারের আসরের প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গ্রুপটি নিয়ে সবার মধ্যে তীব্র উত্তেজনা। ফ্রান্সের মতো টুর্নামেন্ট ফেভারিট, আফ্রিকার শক্তিশালী সেনেগাল, আক্রমণাত্মক নরওয়ে আর অবুঝ স্পয়লার ইরাক। একসঙ্গে পড়ায় প্রতিটি ম্যাচই হতে চলেছে প্রাণঘাতী লড়াই। এই গ্রুপ শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং চারটি ভিন্ন স্টাইলের দলের মধ্যে কৌশলগত যুদ্ধের মঞ্চ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আর রক্ষণভাগের দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত এখানকার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। 

ফ্রান্সকে অনেকেই এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট মানছেন। দিদিয়ের দেশাম্পের নেতৃত্বে লেস ব্লুসরা যোগ্যতা পর্বে দাপট দেখিয়ে এসেছে। তাদের খেলার ধরন অসাধারণ, শক্ত রক্ষণের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। শারীরিক শক্তি, গতি আর বিশ্বমানের তারকাদের মিশেলে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। ধৈর্যশীল খেলা কিংবা ঝড়ো আক্রমণ, দুটোতেই তারা সমান পারদর্শী।


বিজ্ঞাপন


সেনেগাল এবার আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক। লায়ন্স অব টেরাঙ্গা নামে পরিচিত এই দলটি ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া। শারীরিক শক্তি, কৌশলগত শৃঙ্খলা আর আক্রমণের গতি, সবকিছুর চমৎকার সমন্বয় রয়েছে তাদের মধ্যে। আর কোনো সন্তুষ্টি নয়, এবার তারা সত্যিকারের শিরোপার লড়াইয়ে নামতে চায়। আলিউ সিসের নেতৃত্বে দলটি মাঠের প্রতিটি অংশেই শক্তিশালী।

নরওয়ে অনেকদিন পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। নতুন প্রজন্মের এই দলটি ইউরোপিয়ান যোগ্যতা পর্ব পেরিয়ে এসেছে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও তাদের আক্রমণভাগ বিশ্বের যেকোনো রক্ষণকে ভয় দেখাতে পারে। মাঝমাঠে কারিগরি দক্ষতা আর দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে তারা সুযোগ তৈরি করে। রক্ষণে চাপ থাকলেও আক্রমণে তারা মারাত্মক।

ইরাক অবশ্য এই গ্রুপের ‘ডার্ক হর্স’। মেসোপটেমিয়ার সিংহরা প্লে-অফ জিতে এসেছে ইতিহাস গড়ে। তাদের কোনো তারকা নেই, কিন্তু সংগঠিত রক্ষণ, অসাধারণ শৃঙ্খলা আর সেট পিসে বিপজ্জনক তারা। বড় দলগুলোকে বিরক্ত করার সব উপকরণই আছে তাদের কাছে।

গ্রুপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ: ফ্রান্স বনাম নরওয়ে


বিজ্ঞাপন


গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে ফ্রান্স-নরওয়ের লড়াই হবে আসল আকর্ষণ। কিলিয়ান এমবাপে আর আরলিং হলান্ডের মুখোমুখি লড়াই,  এটাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মেসি-রোনালদো যুগের পর এই দুই তারকাই নতুন প্রজন্মের মুখ। ফ্রান্স অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, আর নরওয়ে আন্ডারডগ হিসেবে চমক দেখাতে প্রস্তুত।

খেলোয়াড় যাদের দিকে নজর রাখবেন

সাদিও মানে (সেনেগাল): সেনেগালের আবেগের প্রতীক। আগের বিশ্বকাপে চোটের কারণে খেলতে না পারার দুঃখ এবার ঘোচাতে চান তিনি। সৌদি লিগে খেলে নিজেকে নতুন করে সাজিয়েছেন। এখন তিনি শুধু গোল করেন না, আক্রমণের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই তার নেতৃত্ব আর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরলিং হলান্ড (নরওয়ে): নরওয়েকে একাই ভয়ঙ্কর করে তোলা তারকা। ক্লাব ফুটবলে রেকর্ড ভাঙা এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলে ভিন্ন ভূমিকায় খেলেন। সুযোগ কম পেলেও একটি সুযোগকেই গোলে পরিণত করার ক্ষমতা তার অসাধারণ। শারীরিক শক্তি আর পজিশনিংয়ের মাধ্যমে তিনি বড় দলের রক্ষণকে নড়িয়ে দিতে পারেন।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): ফ্রান্সের অধিনায়ক এখন আর শুধু তরুণ প্রতিভা নন। দলের কেন্দ্রবিন্দু এবং নেতা। বাঁ-পাশ থেকে ভেতরে ঢুকে আসা তার স্বাভাবিক খেলা। গতি আর ফিনিশিংয়ের অসাধারণ মিশ্রণ তাকে বিশ্বের সেরাদের একজন করে তুলেছে। আরেকটি বিশ্বকাপ জয় তার লিগ্যাসিকে অমর করে রাখবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর