চার বছরের অপেক্ষার অবসান। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন মেক্সিকো সিটির দিকে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, এরপরই ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে গড়াবে বল, শুরু হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপ নানা কারণেই বিশেষ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এই আসর, যেখানে ৩৯ দিন ধরে চলবে ফুটবলের বৈশ্বিক মহাযজ্ঞ।
তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের উন্মাদনার পারদ চড়িয়ে দেবেন বিশ্বসংগীতের তারকারা। উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠবেন চারবারের গ্র্যামি জয়ী গ্লোবাল আইকন শাকিরা। তার সঙ্গে থাকবেন কলম্বিয়ার জনপ্রিয় শিল্পী জে বালভিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা টাইলা। সুর, আলো আর রঙের ঝলকে মাতোয়ারা হয়ে উঠবে আসতেকার গ্যালারি। আর সেই উৎসবমুখর আবহের মধ্যেই শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিজ্ঞাপন
১৬ বছর পর আবারও উদ্বোধনী লড়াই
ফুটবল ইতিহাস যেন এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তির সাক্ষী হতে যাচ্ছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গের সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তবে এবার মঞ্চ বদলেছে, বদলেছে প্রেক্ষাপটও। স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠে প্রায় ৮০ হাজার সমর্থকের সমর্থন নিয়ে নামছে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার লক্ষ্যে।
আসতেকার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি ভেন্যু এস্তাদিও আসতেকা এবার গড়তে যাচ্ছে অনন্য এক রেকর্ড। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করা এই স্টেডিয়াম এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আয়োজক হচ্ছে। বিশ্বের আর কোনো স্টেডিয়ামের এমন কীর্তি নেই। পেলের ব্রাজিল থেকে শুরু করে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী এই মাঠে এবার শুরু হবে নতুন প্রজন্মের বিশ্বকাপ যাত্রা।
বিজ্ঞাপন
স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আকাশছোঁয়া
অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুয়েরের অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে মেক্সিকো। টানা আট ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে এসেছে তারা, যা বিশ্বকাপের আগে তাদের দীর্ঘতম অপরাজিত ধারার রেকর্ডের সমান। দলের গোলপোস্টে থাকবেন রাউল রাঙ্গেল। রক্ষণে নেতৃত্ব দেবেন সিজার মন্তেস ও জোহান ভাসকুয়েজ। মাঝমাঠে ব্রায়ান গুতিয়ারেজ এবং আলভারো ফিদালগোর ওপর থাকবে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দায়িত্ব। আর আক্রমণে গোলের খোঁজে থাকবেন অভিজ্ঞ রাউল জিমেনেজ ও গতিময় ফরোয়ার্ড জুলিয়ান কুইনোনেস। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া, ঘানা ও সার্বিয়ার বিপক্ষে টানা জয় স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চাপে নয়, পরিকল্পনায় বিশ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকার
অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রস্তুতির পথে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে বাফানা বাফানাদের। কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা জটিলতার কারণে তারা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে মেক্সিকোর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি। সাম্প্রতিক ফর্মও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। শেষ তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয়হীন ছিল তারা। তবুও কোচ হুগো ব্রুস বিশ্বাস করেন, বড় মঞ্চে অতীতের হিসাব কোনো গুরুত্ব বহন করে না। গোলপোস্টে অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণে লাইল ফস্টার ও ওসউইন অ্যাপোলিসের গতি হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় ভরসা। মাঝমাঠে তেবোহো মোকোয়েনার সৃজনশীলতাও মেক্সিকোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে মেক্সিকো
দুই দলের মুখোমুখি চার ম্যাচের ইতিহাসে মেক্সিকো জিতেছে দুটি, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়েও স্বাগতিকরা বেশ এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই আলাদা চাপ, আলাদা উত্তেজনা। ইতিহাস বলে, প্রথম ম্যাচে অনেক সময়ই ফেবারিটদের জন্য অপেক্ষা করে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ।






















