রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রোনালদো যুগের শেষ অধ্যায়, পর্তুগালের কি লেখা হবে সোনালি ইতিহাস?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

শেয়ার করুন:

রোনালদো যুগে শেষ অধ্যায়, পর্তুগালের কি লেখা হবে সোনালি ইতিহাস?

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে পর্তুগাল এমন এক দল, যাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিভা, নাটকীয়তা আর অপূর্ণ এক স্বপ্ন। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটি বহু বছর ধরে বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ ধাপে থেমে গেছে। তবুও প্রতিবার নতুন করে শুরু হয় একই প্রত্যাশা, এইবার কি ইতিহাস বদলাবে?

বিশ্বকাপে পর্তুগালের অতীত ইতিহাস

পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালে, আর সেই আসরেই তারা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয়। কিংবদন্তি ইউসেবিও-এর অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলটি পৌঁছে যায় তৃতীয় স্থানে। যা এখনো তাদের সর্বোচ্চ অর্জন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পর্তুগাল ছিল ওঠানামার ভেতর দিয়ে চলা এক দল। ২০০২ থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে ২০০৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা এবং ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল, সব মিলিয়ে পর্তুগাল বারবার প্রমাণ করেছে তারা বড় মঞ্চের দল।

পর্তুগালের শক্তির জায়গা

আধুনিক পর্তুগাল এখন আর একক তারকার ওপর নির্ভরশীল দল নয়। তাদের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা হলো ভারসাম্য ও গভীর স্কোয়াড। মিডফিল্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং বার্নার্ডো সিলভা দলের আক্রমণ তৈরির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সৃজনশীলতা ও পাসিং গেম যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দিতে সক্ষম।

রক্ষণভাগে রুবেন ডায়াস দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তার নেতৃত্বে ডিফেন্স এখন অনেক বেশি সংগঠিত ও শক্তিশালী। অন্যদিকে আক্রমণভাগে এখনো সবচেয়ে বড় নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যিনি অভিজ্ঞতা, গোল করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব দিয়ে দলকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যান।


বিজ্ঞাপন


বিশ্বকাপে পর্তুগালের পরিসংখ্যান রেকর্ড ও ঐতিহাসিক অর্জন

বিশ্বকাপে পর্তুগালের পরিসংখ্যান তাদের ধারাবাহিক প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তারা মোট ৩৫টি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে ১৭টিতে জয়, ৬টিতে ড্র এবং ১২টিতে হার এসেছে। এই সময়ে দলটি ৬১টি গোল করেছে এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৪১টি গোল হজম করেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে পর্তুগাল বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে শুধু অংশগ্রহণকারী দল নয়, বরং একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এদিকে পর্তুগালের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতা ইউসেবিও, যিনি ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ৯ গোল করে এককভাবে দলকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় জয় আসে ২০১০ সালে, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৭–০ ব্যবধানে।

নজর থাকবে যাদের ওপর

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ওপর। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থাকছেন সবচেয়ে বড় ফোকাসে; সম্ভবত এটি তার শেষ বিশ্বকাপ, যা তাকে ঘিরে আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেসের প্লেমেকিং এবং বার্নার্দো সিলভার সৃজনশীলতা দলের আক্রমণকে গতিশীল করবে। রুবেন দিয়াসের রক্ষণ নেতৃত্ব এবং গোলরক্ষক ইউনিটের স্থিতিশীলতাও নির্ধারণ করবে পর্তুগাল কতদূর যেতে পারবে। তরুণ ও অভিজ্ঞতার এই মিশ্রণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও।

ডাগআউটের ট্যাকটিক্যাল জেনিয়াস

পর্তুগালের বর্তমান পথপ্রদর্শক কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তার কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আধুনিক ফুটবল দর্শন দলটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। তার অধীনে পর্তুগাল শুধু ফলাফলনির্ভর নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে শিখেছে। ২০২৫ সালে তার নেতৃত্বে দল ইউরোপিয়ান নেশনস লিগ জিতে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় পৌঁছে যায়। ডাগআউট থেকে তার সিদ্ধান্ত, ফর্মেশন পরিবর্তন এবং ম্যাচ ব্যবস্থাপনা সবকিছুই পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর