এশিয়ার পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইরানের জাতীয় ফুটবল দল (টিম মেলি) বিশ্বকাপ মঞ্চে এখনও নিজেদের সত্যিকারের ছাপ রাখতে পারেনি। তিনবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি ছয়বার বিশ্বকাপে খেলেও প্রতিবার গ্রুপ পর্বেই থেমে গেছে। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা আসরে সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নামছে তারা। অভিজ্ঞতা আর তরুণ প্রাণশক্তির মিশেলে গড়া দলটি এবার সত্যিই নকআউট পর্বে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে।
ঘালেনোইয়ের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়
দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন কোচ আমির ঘালেনোই। খেলোয়াড় জীবনে ‘দ্য জেনারেল’ নামে পরিচিত এই ট্যাকটিশিয়ান কোচিং ক্যারিয়ারেও সফলতার ছাপ রেখেছেন। ইস্তেগলাল ও সেপাহানের মতো ক্লাবে লিগ শিরোপা জয়ের পর ২০২৩ সালে জাতীয় দলে ফিরে দ্রুতই দলকে এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও মাত্র একটি হার নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি।
তারেমির উপর ভরসা
দলের আক্রমণভাগের প্রাণ মেহেদী তারেমি। অলিম্পিয়াকোসে খেলা এই ফরোয়ার্ড বাছাইপর্বে ১০ গোল করে আলো ছড়িয়েছেন। ডি-বক্সে তাঁর শান্ত ফিনিশিং ও গতি যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ইরানের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। এবারের আসরে তাঁর পারফরম্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে দলের সাফল্য।
বাছাইপর্বে দাপট
এশিয়ান বাছাইয়ে উজবেকিস্তানের সঙ্গে দু’বার ড্র করলেও তুর্কমেনিস্তান ও হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয়ে গ্রুপে আধিপত্য দেখায় ইরান। তৃতীয় রাউন্ডে তারেমি, সার্দার আজমুন ও মোহাম্মদ মোহেবির দুর্দান্ত খেলায় দ্রুতই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়। তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ২-২ গোলের থ্রিলার ড্রয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট পায় টিম মেলি।
বিশ্বকাপে ইরানের যাত্রা
ইরান এখন পর্যন্ত ৭ বার বিশ্বকাপে খেলেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ২১ নম্বরে অবস্থান করছে তারা। সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে, যেখানে মরক্কোকে হারিয়ে ও পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করে নকআউটের খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের কাছে বড় হারের পর ওয়েলসকে হারালেও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হেরে আবারও গ্রুপে থেমে যায়।
স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-১ জয় এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও দু’দলের খেলোয়াড়দের ফুল বিনিময় ছিল সৌহার্দ্যের অনন্য উদাহরণ।
শেষ কথা
অতীতের হতাশা পেছনে ফেলে এবার সত্যিকারের চমক দেখানোর পালা। শক্তিশালী স্কোয়াড, ফর্মে থাকা তারকা ও কৌশলী কোচ—সব মিলিয়ে ইরানের সামনে এখন সুবর্ণ সুযোগ। নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারলে তা হবে ইরানি ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক।
গ্রুপ পর্বের সূচি
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলবে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের সঙ্গে।
- ১৫ জুন: নিউজিল্যান্ড (লস অ্যাঞ্জেলেস, সকাল ৭টা)
- ২১ জুন: বেলজিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস, রাত ১টা)
- ২৬ জুন: মিশর (সিয়াটল, সকাল ৯টা)




